আর কতো হত্যা? বিশ্বজিৎ থেকে নার্গিস !

প্রকাশিত: ৫:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৬

আর কতো হত্যা? বিশ্বজিৎ থেকে নার্গিস !

Manual2 Ad Code

ফাইল ছবি

সুনির্মল সেন :: উপমহাদেশের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহি ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কলঙ্কের তিলক বিশ্বজিৎ হত্যা। মাতৃগর্ভে অবস্থানরত শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়া, এছাড়া সর্বশেষ সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর প্রাণে মারার হামলা। যারা এসব কান্ড-কারখানা করছে তাদের পরিচয় হচ্ছে, তারা ছাত্রলীগের স্বনাধন্য নেতা।

Manual3 Ad Code

এক সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এই বদরুল আলমকে নিয়ে গণমাধ্যমগুলো সংবাদ পরিবেশন করেছিলো, জামায়াতে ইসলামীর ডাকে হরতালের সময় সিলেটের শাবি চত্বর থেকে তাকে ইসলামী ছাত্র শিবির ধরে নিয়ে রগকেটে দিয়েছিলো। তখন তার দুই পায়ে তিনটি ভয়াবহ আঘাত ছিলো। ওই সময়ে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ অন্যান্য আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

এ ঘটনায় তার পক্ষে শাবি’র অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল কলম ধরেণ। বোধকরি এসব কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শতাধিক সহ-সম্পাদকের মধ্যে বদরুলকেও একজন কেন্দ্রীয় নেতা করা হয়।

Manual8 Ad Code

আজ খাদিজা আক্তার নার্গিস আহতের ঘটনায় ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি।’ আর সেই ঘটনার খলনায়ক হচ্ছেন ছাত্রলীগের মহান নেতা বদরুল। তার প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় সে খাদিজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে রক্তাত্ত করে নিয়ে গেছে মৃত্যুর ঠিকানায়।

Manual1 Ad Code

বিশ্বজিৎকে হত্যাছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের এক বিশাল কলঙ্ক তিলক অধ্যায়। এরপর মায়েরগর্ভে অবস্থানরত শিশু হয়েছে আরেক ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে আহত। সর্বশেষ এই ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হাতেই রক্তাত্ত হলো কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যতোকথাই বলুক না কেন, তারা এসব ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। একটি সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়ে এমন কেউ যাওয়া উচিৎ নয়, যাদের মানবিক মূল্যবোধ লোপ পায়। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা’ জাতীয় সংসদে এ ব্যাপারে প্রশ্ন রেখেছেন, এদের কি মানবিক মূল্যবোধ লোপ পেয়েছে? খাদিজার বাঁচার সম্ভাবনা ছিলো অসম্ভব। মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ভালোবাসায় সুস্থ্য হয়ে উঠছে নার্গিস। তার জন্য সার্বক্ষনিক পরিশ্রম করে চলেছেন চিকিৎসকরা।

কদরুল যখন খাদিজাকে কোপাচ্ছে, তখন এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখলেন, যারা ভিডিও করলেন, তাদেরও শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। এদিকে বদরুল গুণপিঠুনিতে আহত হলো, কিন্তু ঘটনার সময় কেন এটা ঘটলো? খাদিজা আক্তার নার্গিসকে রক্তাত্ত ও মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেই সাহসী তরুণ ইমরানকে পুরষ্কৃত করার দাবী জানিয়েছেন সিলেটবাসী। তারা কামনা করেছেন, বদরুলের হোক সর্বোচ্চ সাজা অথবা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। তাদের দাবী আর যেন এ ধরণের কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code