নারী নির্যাতন : তনু-মিতু-রিশা অবশেষে নার্গিস

প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৬

নারী নির্যাতন : তনু-মিতু-রিশা অবশেষে নার্গিস

Manual3 Ad Code

hqdefaultসুনির্মল সেন :: “বিবেকের সব ক’টা দ্বার যখন বন্ধ প্রায়, স্মৃতি হাতরে যখন স্বস্তি পাওয়া যায়না, অসভ্যতায় যখন নিজ সত্ত্বা বিলীন, হৃদয়ের নান্দনিকতা যেখানে নির্বাসিত, ঠিক সেখানেই আমাদের পারাজয়, সেখানেই পদদলিত হওয়ার আশংকা, সেখানেই পশুত্বকে বরণ করার নির্লজ্জ মহড়া।” আমরা যেনো এর সব কয়টা ধাপ পেরিয়ে এসেছি।

Manual3 Ad Code

যে নারী মা, যে নারী বোন, যে নারী স্ত্রী, যে নারী প্রগতির সহযোদ্ধা, যে নারী কন্যার মর্যাদায় সমাসীন। সে নারী সমাজকে আমরা কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি?

Manual1 Ad Code

নারী সম্পর্কে আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির আদৌকি পরিবর্তন হয়েছে? সভ্য মানুষ বলে দাবীদার আমাদের অবস্থানটা আজ কোথায়? আমরা এখনো মেনে নিতে পারিনা নারীরা আমাদের সাথে সমানতালে কাজ করবে। সহ্য করতে পারিনা তাদের (নারী) উপরে উঠার চেষ্টাকে। সে জন্যই আমরা বাঁধা দেই নারী প্রগতির সব অনুসঙ্গে।

পত্র-পত্রিকা খুললে, গণমাধ্যমগুলো পর্যালোচনা করলেই নারী নির্যাতনের সবাক ছবি জনমনে উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়। যা একাধারে হৃদয় বিধারক-করুন, মর্মান্তিক এবং লজ্জাকর। এর দু’টি কারণ হতে পারে। এক মানুষ মিডিয়ার কল্যাণে এখন অনেক কিছু জানতে পারে। অন্যদিকে এক শ্রেণীর অধিকাংশ মানুষ পাশবিকতা মূক্ত হতে পারেনি। এ কারণেই সমাজে কোনো নারী লাঞ্চিত হলে নারী সমাজকেই তার প্রতিবাদে এগিয়ে আসতে হয়। সমাজের খুব কম পুরুষই এর প্রতিবাদ জানায়। এতে অনেক সময়েই আমরা নিজেদেরকে নির্যাতনকারীর কাঁতারে দাঁড় করিয়ে ফেলি।

Manual2 Ad Code

দেশে নারীদের রক্ষায়, নারীদের উন্নয়নে অনেক আইন হয়েছে। সাংবিধানিক ভাবে খাতায়-পত্রে তা লিপিবদ্ধ থাকলেও পুরুষ শাষিত ব্যবস্থা সর্বক্ষেত্রে বিদ্ধবান থাকায় বাংলাদেশে তা কার্যকর হচ্ছে না। এরই কারণে বার বার নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

যেখানে আমাদের বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে মেধাবী ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে রক্ষা করতে পারেনি। সেখানে গ্রাম-গ্রামান্তরের শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত নারীদের অবস্থা আরো করুন।

এ ব্যাপারে কঠোর আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন। সু-বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা কমিয়ে এনে নারী নির্যাতনকারীর যদি সর্বোচ্চ সাজা অথবা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া যায়, তবে দেশে অনেকাংশে নারী নির্যাতন কমবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code