গণধর্ষণের পর হত্যা : উত্তোলন করা হবে রুপার লাশ

প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৭

গণধর্ষণের পর হত্যা : উত্তোলন করা হবে রুপার লাশ

Manual5 Ad Code

টাঙ্গাইলের মধুপুর বনে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নিহত রুপা খাতুনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হবে। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়ার ৪দিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে লাশ উত্তোলনের আবেদন করা হয় মধুপুর থানা পুলিশের নিকট। পরে থানা পুলিশ আদালতে লাশ উত্তোলনের আবেদন করে। আদালতের অনুমতি মিললেই কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হবে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার তরুণীর লাশ উত্তোলনের পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। পরিবারের পক্ষে তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান প্রামানিক লাশ বুঝে নিবেন। পরে তা সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার আছানবাড়ী গ্রামে দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকার বনাঞ্চলের রাস্তার ধারে এক তরুণীর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকার খবর পায় মধুপুর থানা পুলিশ। পরে মধুপুর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম, ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলামসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে আসে।

শারিরিকভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে অপরাধীরা নিরাপদ ভেবে অজ্ঞাত ওই তরুণীর লাশ বনের সড়কে ফেলে রেখে যায় ধারণা করে শনিবার হত্যা মামলা দায়ের করে মধুপুর থানা পুলিশ। এরপর থেকে অপরাধীদের সনাক্ত করার জোর চেষ্টা চালায় তারা।

Manual3 Ad Code

তরুনীর বড় ভাই গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে সোমবার রাতে মধুপুর থানায় উপস্থিত হয়ে লাশের ছবি দেখে পরিচয় সনাক্ত করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যর উপর নির্ভর করে জোরালো অভিযানে নেমেছে পুলিশ।

Manual7 Ad Code

নিহত তরুণী বড় ভাই সাবেক সংবাদকর্মী হাফিজুর প্রামানিক জানান, তার ছোট বোন রুপা খাতুন অনার্স শেষ করে ঢাকার আইডিয়াল ল’কলেজে এলএলবি বিষয়ে অধ্যায়নরত ছিল। পাশাপাশি সে শেরপুর জেলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রোমশনাল ডিভিশনে কর্মরত ছিল। গত শুক্রবার শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে সে বগুড়া যায়। পরে পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোয়া পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৬৩) একটি বাসে তার এক সহকর্মীর সাথে যাত্রা করে। তার সেই সহকর্মীর কর্মস্থল ঢাকায় হওয়ায় সে এলেঙ্গাতে নেমে যায় এবং রুপা ঐ বাসেই ময়মনসিংহ যাচ্ছিল। কিন্তু সে সঠিক সময়ে ময়মনসিংহ না পৌছায় তার সহকর্মীরা মোবাইলে ফোন করলে এক যুবক ফোনটি রিসিভ করে এবং রুপা ভুল করে ফোনটি ফেলে রেখে গেছে বলে জানিয়ে কেটে দেয়। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকালে কর্মস্থলে না পৌছায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ এর শেরপুর অফিস থেকে রুপার বড় ভাই হাফিজুর প্রামানিক এর মোবাইলে রুপা কর্মস্থলে না ফেরার বিষয়টি অবগত করে তারা। পরবর্তীতে রুপার মোবাইলে যোগাযোগ করতে না পেরে তার বড় ভাই ময়মনসিংহ কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। সোমবার গণমাধ্যমের খবর পড়ে সে মধুপুর থানায় এসে রক্তা অবস্থায় পড়ে থাকা তরুনীর লাশের ছবি দেখে তার বোন বলে সনাক্ত করে। এসময় তিনি রুপার কর্মস্থল এর সহকর্মীদের দেওয়া তথ্য থানা পুলিশকে অবগত করে।

Manual2 Ad Code

এদিকে লাশের পরিচয় না মেলায় শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারীশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রিয় গোরস্থানে দাফন করে পুলিশ।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code