সীমান্তগুলো চোরাকারবারীদের জন্য উন্মুক্ত! বাজার হারাচ্ছে দেশীয় পণ্য

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

সীমান্তগুলো চোরাকারবারীদের জন্য উন্মুক্ত! বাজার হারাচ্ছে দেশীয় পণ্য

Manual2 Ad Code

দেশের কিছু পণ্য বিদেশে পাচার করছে এবং বিদেশী পণ্য দিয়ে বাংলাদেশের পূর্ণ করে দিচ্ছে। আর এই পণ্যগুলো আদান-প্রদানের করিডোর হিসেবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকাগুলোকে বেচে নিয়েছে। প্রশাসনের এব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না থাকায় সিলেটের সীমান্ত চোরাকারবারীদের জন্য উন্মুক্ত!

Manual8 Ad Code

সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, জাফলং, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, ফুলতলা, রবিরবাজার, মুরাইছড়া, সংগ্রামপুঞ্জি, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, ইসলামপুর, নোয়ারাই প্রভৃতি স্থানগুলো বিদেশী ও দেশী পণ্য আদান-প্রদানে অসাধু ব্যবসায়ি চোরাকারবারীদের জন্য অতি প্রিয় ও নিরাপদ স্থান।

Manual3 Ad Code

সিলেট অঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষিত বেকার যুবকরা আমদানী রপ্তানি ব্যবসার নামে দীর্ঘদিন থেকে এইসব ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এর ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকার ও দেশ।

সম্প্রতি এব্যাপারে কথা হয়- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজনের সাথে। এ যাবত তিনি আমদানী রপ্তানী ব্যবসা ৪/৫ বছর কিভাবে করেছেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, ফুলতলা সীমান্ত দিয়ে তিনি বাংলাদেশী চা-পাতা ভারতে পাচার করেছেন। এছাড়াও তিনি যেকোনো দেশের বড় বড় শহরগুলোতে তার নিজস্ব মানুষ থাকায় তাকে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়না।

সম্প্রতি সিলেট কথা হয় আরেক চোরাকারবারীর সাথে। তিনি জানান, এই পণ্য (জিরা) দিনাজপুর নিয়ে যাবেন। প্রতি সাপ্তাহে এক গাড়ি ওই মাল তিনি দিনাজপুর পৌঁছে দেন। কোনো জায়গায় আটকা পড়লে একটি ফোন কলই যথেষ্ট বলে তিনি জানান। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন ফ্লাইং ব্যবসার নামে অসাধু এই ব্যবসায়ীরা সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে বিক্রয় করছে। এভাবে সিলেট বিভাগের প্রতিটি স্থানে এসকল অবৈধ ব্যবসায়ীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি আধুনিক শপিং মলে ভারতীয় বিভিন্ন ধরণের পোষাক দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে এসব স্থান থেকে বিভিন্ন ইলেকট্্িরক ও ইলেকট্রোনিক্স পণ্য সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করছে ওই অসাধু চক্র।

সূত্রটি আরো জানায়, প্রশাসন এব্যাপারে জানা সত্বেও রহস্যজনক কারণে অসাধু ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়নি। এছাড়া শপিং মলগুলোতে অবৈধ পোষাক আমদানীর বিরুদ্ধে অভিযান না থাকায় নগরীর নামী-দামি পোষাক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেড়েই চলেছে ভারতের পোষাক বাণিজ্য। ফলে দেশীয় পণ্যগুলো বাজার হারাচ্ছে এবং এ খাত থেকে সরকার বিপুল পরিমান অর্থনৈতিক লোকসানের সম্মুখিন হচ্ছে।

Manual1 Ad Code

দেশ প্রেমিক সচেতন মহলের মতে, এইসব অসাধু ব্যবসায়ী ও তাদের পণ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌথ অভিযান জোরদার করা খুবই জরুরী।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code