হাওরে শ্রমিক সংকট : পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

প্রকাশিত: ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৮

হাওরে শ্রমিক সংকট : পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

Manual2 Ad Code

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের কৃষকদের ছয় মাসের কষ্টার্জিত বোরো ফসল ঘরে তুলতে বৈশাখ মাসের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। হাওরে সোনালী ধান পাকতে শুরু হয়েছে। আবার কোন কোন হাওরে কৃষকদের মধ্যে কেউ কেউ কিছুটা ধান কাটাও শুরু করেছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দিনের চমকানো বিজলী দেখে আতংঙ্কিত হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।

গত বৃহস্পতিবারের কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে হাওরের ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।

Manual8 Ad Code

প্রাকৃতিক দুর্যোগের অবস্থা দেখেই পানি সম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সুনামগঞ্জে এসে সার্কিট হাউসের কনফারেন্স রুমে প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের লোকজনসহ কৃষকদের নিয়ে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ধান কেটে প্রত্যেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত সোনালী ধান গোলায় তোলার পরামর্শ দেন। তবে কৃষকদের দাবী হাওরে আগাম জাতের রোপন করা ধান পাকলেও শ্রমিক সংকটের জমিতে পাকা ধান নিয়ে কৃষকরা রয়েছেন চরম আশংঙ্কায়।

Manual8 Ad Code

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, হাওরের মাঠে মাঠে এখন সোনালী ধানের মৌ মৌ ঘ্রান, ধান পাকতে শুরু করেছে। ঘরে ঘরে চলছে ধান তোলার প্রস্তুতি। অনেক কৃষক পরিবার তাদের বাড়ির পাশে কিংবা মাঠে ধান শুকানোর জন্য খলার জায়গা তৈরীর কাজে ব্যস্ততা ও দুশ্চিন্তা দুটোরই যেন অন্ত:নেই। তারা বিভিন্ন জেলায় ধান কাঁটার শ্রমিকের জন্য প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও ইতিমধ্যে ধান কেটে শুকিয়ে ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষকরা।

গত বছর অরক্ষিত বাঁধ আর অকাল বন্যায় জেলার সবকটি হাওরের কৃষকদের সোনালী ফসল তলিয়ে যাওয়ার দিশেহারা ছিলেন, কৃষকরা কিন্তু তারপরেও কৃষকদের আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার পর নি:স্ব- নি:শ্বপ্রাণ হাওরে যেনো আবারো জেগেছে প্রাণ। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে হাওরপাড়ের কৃষকদের মনের মাঝে। ধানের ক্ষেতে প্রতিদিনের পরিবর্তন দেখে মলিন কৃষকের মুখে আবারো দেখা দিয়েছে আনন্দের ঝিলিক।

কৃষকের একদিকে আকস্মিক বন্যা-শিলাবৃষ্টির আশংকা, অন্যদিকে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য চলছে প্রস্তুতি। ধান কাটার শ্রমিকের জন্য খবর পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। মেরামত করা হচ্ছে ধানের গোলা।

Manual2 Ad Code

কৃষকরা জানান, এখন জমির ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য বড় সংকট হচ্ছে শ্রমিক সংকটই। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবছর লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া ধান তুলতে পারলে হাওরের মানুষের দু:খ অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আশা করছেন তারা। কৃষকরা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারেন সেজন্য কৃষি বিভাগ সর্বদা নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার সাহা।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর সুনামগঞ্জ জেলায় ২ লক্ষ ২২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৩ হাজার ৪২৬ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরপাড়ের কৃষক দিলোয়ার হোসেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের টাইলা গ্রামের কৃষক সুধারঞ্জন দাস জানান, হাওরে ধান পাকলেও শ্রমিক সংকটের কারনে তারা চরম দু:চিন্তায় রয়েছেন। অন্যান্য বছর উত্তরাঞ্চল থেকে ধান কাটার লোকজন আসত। কিন্তু চলতি বছর উত্তরাঞ্চল থেকে ধান কাটার শ্রমিক না আসার সম্ভাবনা কম থাকায় কৃষকরা যেন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কৃষক ঝন্টু রায় বলেন, হাওরে ২০ কেয়ার জমি করছি। এর মধ্যে ৫ কেয়ার আগাম চাষের জমির ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কিছু কিছু জমিতে ইতিমধ্যে ধান পেকে গেছে। এবছর বেপারী না আসায় ৫০০ টাকা রোজবন্ধী মানুষ নিয়া ধান কাটা শুরু করছি। আর দিনের যে অবস্থা না জানি কোন সময় কি হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা জানান, এবছর খুবই ভালো ধান হয়েছে। আর মন্ত্রী মহোদয় সুনামগঞ্জে এসে পরামর্শ দিয়ে গেছেন ১৫ দিনের মধ্যে ধান কেটে তোলার জন্য। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি উপজেলার কৃষি অফিস সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করছে। আর কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এবছর শতভাগ সোনালী ধান কৃষকের গোলায় উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code