সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮
সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারার ঐতিহ্যবাহী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক মাটির দালান আধুনিকতার ছোয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে। শীত ও গরম উভয় মৌসুমে মাটির ঘর আরামদায়ক। তাই আরামের জন্য বিভিন্ন এলাকার গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানও মাটির দালান তৈরি করে এক সময় বসবাস করতেন। বর্তমানে দরিদ্র কিছু মানুষের বাড়িতে মাটির দালান দেখা যায়।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আধুনিকতার ছোয়ায় মাটির দালানে বসবাসরত মানুষের জীবন যাত্রায় পরিবর্তন ঘটেনি। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে বসবাস করে আসছে নিজেদের হাতে গড়া মাটির দালানে।
ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়ন, পৌরসভার পাহাড়ী জনপদ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী হকনগর, জুমগাঁও পাহাড়ী জনপদ ঘুরে অভাবে থাকা খেটে খাওয়া মানুষের বসবাসের এ চিত্র দেখা গেছে।
নোয়ারাই ইউপির জোড়াপানি, কুপিয়া, কৈয়াদল, মহিষমারা, রাজগাঁও, জয়নগর, কুরিয়া, বাঁশটিলা, শাহ আরেফিননগর, মারুয়াটিলা, বড়গলা, রংপুর, গোদাবাড়ী, মানিকপুর, কচুদাইড়, ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই, নোয়ারাই-ইসলামপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা, জুমগাঁও গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবারের মানুষ মাটির দালানে বসবাস করছে।
মাটির দালানে বসবাসরত লোকজন জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের জন্যে নিজেরাই তৈরি করেছেন মাটির দালান। এসব দালানে নিজেদের সাধ্য মতো টিন ও ছনের (খড়ের) চাল তৈরি করে তারা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। রড, সিমেন্টের তৈরি দালানের চেয়ে মাটির তৈরি দালানের স্থায়িত্ব অনেক বেশী। একটি মাটির তৈরি দালানের স্থায়িত্ব প্রায় একশ’ বছর। এটি তৈরি করতে প্রায় ৩ থেকে ৪মাস সময় লাগে ও তৈরিতে কোন ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয়না। মাটির দালানে বসবাস করে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও আত্মতুষ্টির পান।
জানা যায়, টিলা ও জমি থেকে সংগৃহিত এঁটেল মাটি ভেঙে গুড়ো করে পানির সংমিশ্রনে আঁটালো জাতের কাঁদা তৈরি করে দেওয়াল নির্মাণের উপযোগী করে তোলা হয়। ১ ফুট থেকে ২ ফুট পরিমানে দেওয়ালের পুরুত্ব দিয়ে একহাত পরিমাণে উঁচু গাঁথুনী করার পর ৩/৪দিন শুকানো হয়। দেওয়াল শুকানোর পর আবারও নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এভাবেই একটি দালান তৈরি করতে ৩ থেকে ৪ মাস সময় ব্যয় হয়। অনেক দালানের দেওয়ালের ভেতরে বাঁশের খুঁটা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
কাঠ ও বাঁশের তৈরি দরজা, জানালায় ঘরের সৌন্দর্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। মাটির নিচ থেকে গাঁথুনী দিয়ে দেওয়াল নির্মাণের ফলে ছিঁচকে চোর ও সিঁদেল চোরের আশংকা নেই। বৃষ্টির প্রকোপ থেকে রক্ষা করা গেলে দালানের স্থায়ীত্ব হয় প্রায় একশ’ বছর।
যা আমাদের সংস্কৃতিতে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে সর্ব মহলে যূগ যূগ থেকে সমাদৃত হয়ে আসছে দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের সোলায়মান জানান, এক যুগ আগে এলাকায় অনেক মাটির দালান দেখা যেত। কিন্তু কালের আবর্তে অট্টালিকার কাছে হার মেনেছে আরামদায়ক মাটির দালান।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি