আতঙ্কে মাঠ ছেড়ে ঘরোয়া পরিবেশে জামায়াত

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, জুন ২, ২০১৬

আতঙ্কে মাঠ ছেড়ে ঘরোয়া পরিবেশে জামায়াত

Manual2 Ad Code
download (2)সুরমা মেইল নিউজ : নিষিদ্ধ হওয়ার আতঙ্কে রাজপথে নিষ্ক্রিয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে সবচেয়ে বিপদে থাকলেও আতঙ্কে মাঠ ছেড়ে ঘরোয়া পরিবেশে সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির। চলতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নেতা-কর্মীরা ব্যাপক অংশগ্রহণের কথা আগে আভাস দিলেও তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যেসব স্থানে নেতা-কর্মীদের অবস্থান শক্তিশালী সেসব স্থানেও তারা বেশ নিষ্ক্রিয়। চলতি বাজেট অধিবেশনেই দলটি নিষিদ্ধের বিল সংসদে উঠতে পারে বলে জানা গেছে।
গত ১৬ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক আলোচনায় অংশ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে জুনে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
জানা যায়- মগবাজারে কেন্দ্রীয়, পল্টনে মহানগর জামায়াত ও শিবিরের কেন্দ্রীয় অফিসসহ সারা দেশে এই দলের সব কার্যালয় বছরের পর বছর ধরে বন্ধ। নেতা-কর্মীরা কোথাও কেউ প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কাজ করতে পারছেন না। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ শীর্ষ চার নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতা আবদুস সুবহান, এ টি এম আজহার ও মীর কাসেম আলী।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, দেশব্যাপী দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দমননীতি চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায়ও ভীত নয় জামায়াত। রাজপথে নেমে আবার তারা সরকারের ফাঁদেও পা দিচ্ছেন না। কেন্দ্রীয় শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, সরকার যত নিপীড়নই চালাক, জামায়াত তার অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না। আর নিপীড়ন চালিয়ে এ সরকারও বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না। জামায়াতের একাধিক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান, পুলিশ প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে প্রকাশ্যে বের হওয়া দূরের কথা, ঘরের ভিতরও পাঁচজন সদস্য এক হতে পারছেন না। এমনকি পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে গেলেও ‘ষড়যন্ত্র করছে’ বলে আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুকের মাধ্যমে নিয়মিত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছেন। তাদের সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খরচ বহন করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর জামায়াতের এক নেতা বলেন, দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীর বাসা আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এখন জামায়াতের অফিস।
তিনি বলেন, জামায়াত রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে সাংবিধানিক পন্থায় রাজনীতি করছে। দেশের সংবিধান ও আইন অনুসরণ করেই নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে নিবন্ধন দিয়েছিল। এরই মধ্যে জামায়াত গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছে। আমরা আশাবাদী উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পাব। তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত রাজপথে না এসে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকেই চলবে জামায়াতের কার্যক্রম।
সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code