জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের ৭ শহীদের বিচারে গতি ও স্মৃতিচত্বর চান স্বজনরা

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের ৭ শহীদের বিচারে গতি ও স্মৃতিচত্বর চান স্বজনরা

Manual3 Ad Code

শহীদ তাজ উদ্দিন, মো: পাবেল আহমদ কামরুল, শহীদ মিনহাজ আহমদ, শহীদ নাজমুল ইসলাম, শহীদ সানি আহমদ, শহীদ গৌছ আহমদ ও শহীদ জয় আহমদ। বাঁ থেকে (ছবি: সংগৃহীত)


মেইল ডেস্ক:
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ইতিহাসে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার জন্য এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধূর দিন। সেদিন ঢাকাদক্ষিণ, বারকোট ও উপজেলা সদর এলাকায় সংঘটিত গুলির ঘটনায় প্রাণ হারান ছয়জন। পরদিন ৫ আগস্ট সিলেট নগরীতে আরও একজন নিহত হলে আন্দোলনে গোলাপগঞ্জের মোট শহীদের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

 

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের ক্ষত আজও শুকায়নি। স্বজনদের অভিযোগ, “বিচারপ্রক্রিয়া দৃশ্যমান অগ্রগতি না পাওয়ায় তারা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।”

 

নিহতরা হলেন- নাজমুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন, সানি আহমদ, জয় আহমদ, গৌছ উদ্দিন, মিনহাজ আহমদ এবং ৫ আগস্ট সিলেট নগরীতে নিহত পাবেল আহমদ কামরুল।

 

স্বজনরা জানান, ‘ক্যালেন্ডারে ৪ আগস্ট ফিরে এলেই নতুন করে জেগে ওঠে শোকের স্মৃতি। হারানো সন্তানের মুখ, স্বামীর স্মৃতি কিংবা ভাইয়ের শূন্যতা আজও তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।’

 

স্থানীয়দের দাবি, ‘ওই দিনের সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন এবং পুরো গোলাপগঞ্জজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সরকার পতনের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটলেও স্বজন হারানোর বেদনা আজও মুছে যায়নি।’

Manual5 Ad Code

 

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

শহীদ জয় আহমদের ভাই মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। আমার ভাইসহ গোলাপগঞ্জের সাত শহীদ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

Manual5 Ad Code

 

তিনি গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে সাত শহীদের স্মরণে একটি স্মৃতিচত্বর নির্মাণেরও দাবি জানান।

 

নিহত পাবেল আহমদ কামরুলের বড় ভাই পিপলু আহমদ বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সব শহীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতি বছর এই দিনে প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদদের কবর জিয়ারতের আয়োজন করা উচিত।’

 

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছবেদ আলী বলেন, ‘তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং মামলাগুলোর নথি পর্যালোচনা করবেন।’

 

আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় একাধিক মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। উপযুক্ত ভিডিও, ছবি বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

 

গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

 

তিনি জানান, ‘উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বাদ জোহর শহীদদের মাগফেরাত কামনায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এছাড়া আজ ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

 

সাত শহীদের নামে স্মৃতিচত্বর নির্মাণের দাবির বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘সিলেট-শ্যাওলা সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান থাকায় গোলাপগঞ্জ চৌমুহনীতে স্মৃতিচত্বর নির্মাণ কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তবে বিকল্প স্থানে এটি নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে এবং জেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে কাজ করছে।’

 

Manual8 Ad Code

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual4 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code