ঠেকাতে ব্যর্থ ইউএনও: বুরুঙ্গাছড়ার কোটি টাকার নুড়ি ও চুনাপাথর লুট

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫

ঠেকাতে ব্যর্থ ইউএনও: বুরুঙ্গাছড়ার কোটি টাকার নুড়ি ও চুনাপাথর লুট

Manual1 Ad Code

রাষ্ট্রীয় খনিজ সম্পদ নুড়ি ও চুনাপাথর লুটের পর পর্যটক বান্ধব বুরুঙ্গাছড়ার জনমানবহীন দৃশ্য। ছবি: প্রতিনিধি


নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ :
সীমান্তের বুরুঙ্গাছড়ার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় খনিজসম্পদ চুনা ও নুড়িপাথর লুট ঠেকাতে ব্যার্থ হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। চার রাতে (২১ সেপ্টেম্বর থেকে) ইজারাবিহীন ওই ছড়া থেকে একটি সিন্ডিকেট নির্বিঘ্নে লুটে নিয়েছে স্তূপাকারে থাকা এসব খনিজসম্পদ।

 

Manual2 Ad Code

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তাহিরপুরের ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি।

Manual2 Ad Code

ইউএনও মানিক


বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গেলে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট সীমান্তের বুরুঙ্গাছড়া, বড়ছড়াসহ একাধিক সীমান্ত গ্রামের মানুষ।

 

জানা যায়, চুনা ও নুড়িপাথর লুট সিন্ডিকেটের মূলহোতা বড়ছড়া গ্রামের মৃত ধনু মিয়ার ছেলে সীমান্তের পেশাদার চোরাকারবারি আমির আলী, তার ছেলে লিয়াকত, মাটিকাটা গ্রামের দুলা মিয়াসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন।

 

বুরুঙ্গাছড়া ও বড়ছড়ার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষজন জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার পর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত ১৮০ থেকে ২০০ ঠেলাগাড়িতে একাধিক ট্রিপে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন চুনাপাথর, ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার ঘনফুট নুড়িপাথর লুটে নেওয়া হয়েছে। প্রতি টন চুনাপাথরের স্থানীয় মূল্য ২৮শ টাকা এবং প্রতি ঘনফুট নুড়িপাথরের মূল্য ১২০ টাকা। এভাবেই গেল চার রাতে ৮৪ লাখ থেকে ৯৮ লাখ টাকার খনিজ চুনাপাথর এবং ৬ লাখ থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের নুড়িপাথর লুট করে নেওয়া হয়েছে ইজারাবিহীন বুরুঙ্গাছড়া থেকে।

Manual3 Ad Code

 

প্রথম ধাপে কয়েকশ শ্রমিক সিন্ডিকেটের পাহারায় ঠেলাগাড়িতে করে এবং দ্বিতীয় ধাপে গ্রামের দক্ষিণের সড়ক পাড়ি দিয়ে কাইমড়া ছড়ার তীরে নিয়ে নৌকায় ভরে নির্বিঘ্নে চলে যায়।

 

বড়ছড়া গ্রামের আমির আলী বলেন, অনেকেই চুনাপাথর, নুড়িপাথর নিয়ে গেছে। এক সময় কয়লা-চুনাপাথর চোরাচালানে জড়িত থাকলেও এখন আমি বা আমার ছেলে লিয়াকত এসবের সঙ্গে আর জড়িত নই।

Manual7 Ad Code

 

তাহিরপুরের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানের মামা মাটিকাটা গ্রামের দুলা মিয়া বলেন, আমি চুনাপাথর, নুড়িপাথর লুটের ব্যাপারে কিছুই জানি না।

 

তাহিরপুরের দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা সবুজ আলম বলেন, আমিও এ ব্যাপারে কিছুই জানি না।

 

তাহিরপুর থানার এসআই বদিউজ্জামান বলেন, পুলিশ সদস্যরা চুনাপাথর, নুড়িপাথর লুটের সঙ্গে জড়িত নন। আমার চোখে এমন কিছু পড়েনি।

 

সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের ট্যাকেরঘাট কোম্পানি হেডকোয়ার্টারের বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার উত্তম কুমারের কাছে বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে চুনাপাথর, নুড়িপাথর লুট হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন (জুম) মিটিং চলছে। পরে কথা বলব।

 

(সুরমামেইল/এইচএসএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code