সিলেট ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০১৬
ফয়ছল আহমদ :: আজ ১০ নভেম্বর, সাধক কবি রাধারমন দত্ত-এর ১০১তম প্রয়াত দিবস। বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার অধিবাসীরা প্রাচীন কাল থেকেই অন্যান্য এলাকার তুলনায় সম্পদে যেমন সুখী, তেমনি ভাবে সাহিত্য সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তারা বিরাট অবদান রেখেছেন। এখানকার অধিবাসীরা সব সময়ই সু-সংস্কৃতি রক্ষণাবেক্ষনে বদ্ধ পরিকর। এ ব্যাপারে তার দেশ-বিদেশে খ্যাতি রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা হাওড়, বিল, নদী-নালা প্রভৃতিতে পরিপূর্ন। প্রাকৃতিক মনোমূর্গ্ধকর পরিবেশে সুপ্রাচীন কাল থেকেই এখানে আউল-বাউল, পীর-ফকির, বৈঞ্চব-ভাবুক, সাধক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বদের জন্ম হয়। যাদের কৃতিত্বে জগন্নাথপুর উপজেলা গুনে-গুণান্বিত তাঁরা হলেন, সাধক সৈয়দ শাহ হোছন আলম, মরমি কবি সৈয়দ আসহার আলী চৌধুরী, সৈয়দ শাহপুর, রাধারমন দত্ত, সাধক সৈয়দ শাহনুর, আছিম শাহ এবং কালু শাহ। তাঁদের অমর রচিত গীত বাংলার লোকসংগীত আজ পরিপূর্নভাবে গড়ে উঠেছে। তাঁদের নিজস্ব সৃষ্টিতে মরমী সংগীতের অমৃত রসের ধারা বইয়ে দিয়েছেন এবং আজো তাঁদের কৃতকর্ম মানুষের মনি কোঠায় সুঁরের ঝঙ্কারে স্থান করে নিয়েছে।
‘এই জগন্নাথপুরে তাঁদের মধ্যে অন্যতম হয়ে চির নিদ্রায় সাহিত হয়ে আছেন সাধক কবি রাধারমন দত্ত।’ তিনি ছিলেন একজন মহান সাধক, তিনি বাংলায় ধামাইল সংগীতের সৃষ্টি করেছেন। লোকসংগীতের পুরোধা। লোককবি হিসেবে সমগ্র বাংলায় পরিচিত তিনি।
প্রসঙ্গত, রাধারমন দত্ত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে ১২৪১ বাংলায় আতুয়জান পরগনার সাবেক জগন্নাথপুর রাজ্যের রাজধানী বর্তমান কেশবপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই ধর্মীয় ভাবাপন্ন ছিলেন। শাস্ত্রীয় পুস্তকাদির চর্চা ও সাধু সন্ন্যাসীদের সংস্পর্শকে তিনি খুবই ভালোবাসতেন। তাঁর পিতা- রাধামাধব দত্ত, মা সূর্বণা দেবী। রাধারমন দত্তের পিতা রাধামাধব দত্ত একজন সু-কবি ছিলেন। তিনি সংস্কৃত ভাষায় কবিতার ছন্দে কবি জয়দেব কৃত গোবিন্দের ঠিকা, ভারত সাবিত্রী ও ভ্রমর গীত রচনা করেছিলেন।
বৈঞ্চব কবি রাধারমন দত্ত পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় উপাসনার প্রধান অবলম্বন সংগীতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল শৈশব থেকেই। খ্যাতিমান লোককবি জয়দেবের গীতাগোবিন্দের বাংলা অনুবাদ করেছিলেন রাধারমন দত্তের পিতা রাধামাধব দত্ত। তিনি পিতার সংগীত ও সাধনায় সাংস্কৃতির অঙ্গনে আরো প্রভাবিত হয়ে উঠেন। ১২৫০ বঙ্গাব্দে রাধারমন পিতাহারা হয়ে মা সূবর্ণা দেবীর কাছে বড় হতে থাকেন। ১২৭৫ বঙ্গাব্দে মৌলভীবাজারের বাদেপাশা গ্রামে শ্রী চৈতন্যদেবের অন্যতম পরিষদের সেন শিবানন্দ বংশীয় নন্দকুমার সেন অধিকারীর কন্যা গুণময়ী দেবীকে বিয়ে করেন। পিতার রচিত গ্রন্থগুলো সে সময় তাঁর জন্য পিতা আদর্শ হয়ে হৃদয়ে স্থান করে নিলেন এবং কালক্রমে তিনি একজন কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এক সময় রাধারমন দত্তের মাঝে ছিলো না কোনো প্রতিভা। পরবর্তীতে তিনি ভালোমানের একজন গায়ক, সুরকার হয়ে ওঠেন এবং একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে সমগ্র দেশে পরিচিতি লাভও করে ছিলেন তিনি। তাঁর রচিত গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে তত্ব সংগীত, দেহতত্ব, ভক্তিমূলক, অনুরাগ, প্রেম, ভজন, বিরহ, আক্ষেপ, মান, ধামাইলসহ নানা ধরনের কয়েক হাজার গান। তিনি কয়েক শত ধামাইল গানও লিখিছেন। যার ফলে তাঁকে ধামাইল গানের জনক বলে আখ্যাহিত করা হয়। এসব ধামাইল গান দিয়ে নারীদের কন্ঠে গীত হত বিয়ের অনুষ্টানে।
উল্লেখ্য- গত বছর রাধারমণ স্মৃতি কমপ্লেক্সের জায়গা নির্ধারন করা হলেও আজ পর্যন্ত স্মৃতি কমপ্লেক্সের কাজের কোনো গতি দেখা যাচ্ছেনা।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি