নেত্রকোনায় জোড়া খুন: সিরিয়াল কিলার তাজুল সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১০:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৯

নেত্রকোনায় জোড়া খুন: সিরিয়াল কিলার তাজুল সুনামগঞ্জে গ্রেপ্তার

Manual2 Ad Code
ডাবল মার্ডার মামলার প্রধান আসামি সিরিয়াল কিলার তাজুল ইসলাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাহিরপুর : নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের কাপড় ব্যবসায়ী অরুণ কুমার সাহা (৭৪) ও তার স্ত্রী হেনা রাণী সাহা (৬৫) চাঞ্চল্যকর লোমহর্ষক হত্যাকান্ডের (ডাবল মার্ডার) প্রধান আসামি সিরিয়াল কিলার তাজুল ইসলাম ওরফে তাজুকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানা পুলিশ আটক করেছে।

 

চাঞ্চল্যকর ওই মামলাটি ময়মনসিংহ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র এক দায়িত্বশীল ইন্সপেক্টর তদন্ত করছেন।

 

শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাহিরপুরের বড়দল উত্তর ইউনিয়নের মাণিগাঁও গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

Manual5 Ad Code

তাজুল নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাগিচাপাড়ার আজিজুল ইসলাম। ওই জোরা খুনের পরপরই তাজুল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাদাঘাট এলাকার দিঘীরপাড় গ্রামে শশুড় বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছে।

 

পিবিআইর’র তদন্তকারি অফিসারের দাবি ২০১৫ সালে সংঘঠিত ওই দম্পতি হত্যাকান্ডের এখন পর্যন্ত আটক হওয়া মূলহোতা ও প্রধান আসামী এই সিরিয়াল কিলার তাজুল ইসলাম।

 

শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আমির উদ্দিন শনিবার রাতে একদল পুলিশ নিয়ে টহলকালীন সময়ে সন্দেহজনকভাবে ঘেরাফেরা করার সময় তাজুলকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসেন।

 

ময়মনসিংহ পিবিআই’র তদন্তাররি অফিসার কর্তৃক তাহিরপুর থানায় প্রেরিত তাজুলকে গ্রেফতারে অধিযাচন পত্রের আলোকে তাকে আটক করা হয়।

 

পরবর্তীতে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে নানা টালবাহানার পর নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানায় জোরাখুনের পলাতক আসামি হিসাবে তাজুল নিজেই স্বীকার করে নেয়।

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান, ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর শুক্রবার দিনদুপুরে দুর্গাপুর পৌর শহরের সুবর্ণা প্লাজার তৃতীয় তলার নিজ বেডরুমে ব্যবসায়ী দম্প্রতিকে একদল দুর্বৃত্ত পূর্বপরিকল্পিতভাবে নৃশংশভাবে গলাকেঁটে হত্যারপর রক্তার্থ লাশ ফেলে রেখে যায়।

 

হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে সমীর চন্দ্র সাহা বাদী হয়ে ২৫ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর বেশ কিছুদিন সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে।

Manual7 Ad Code

 

‘ক্লু লেস’ ওই মামলাটি আরো অধিকতর তদন্ত ও হত্যকান্ডে জড়িতদের শানাক্তকরণে তদন্তভার ময়মনসিংহ পিবিআইকে তদন্তভার দেয়া হয়।

Manual3 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

তৎকালীন সময়ে দুর্গাপুজার বিজয়া দশমীর দিনে বয়োবৃদ্ধা দম্পতিদকে নৃশংশ কায়দায় হত্যাকান্ডের ঘটনায় আজো গোটা দুর্গাপুরবাসী শোকে বিহ্বল হয়ে আছেন।

 

রোববার (২৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ (পিবিআই) পরিদর্শক ও মামলা তদন্তকারি কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (ওসি) মো. আবুল কাশেম বলেন, ক্লু-লেস জোরা হত্যাকান্ডের তদন্তভার পিবিআই’র উপর ন্যাস্থ হবার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে ব্যবসায়ী অরুণ সাহা ও তার স্ত্রী হেনা রাণী সাহাকে তাজুলের নেতৃত্বে একটি ভাড়াটিয়া খুনীচক্র গলাকেটে দম্পতির লাশ ঘরে ফেলে রেখে চলে যায়।

 

তাজুল একজন পেশাদার ‘সিরিয়াল কিলার’ দাবি করে পিবিআই’র ওই তদন্তকারি কর্মকর্তা আরো জানান, সে মুলত টাকার বিনিময়ে অতীতে একাধিক দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যাকান্ড ঘটনা ঘটনায়। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code