ফেসবুকে ভাইরাল ঢাবির সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর ছবি

প্রকাশিত: ১:১২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০১৮

ফেসবুকে ভাইরাল ঢাবির সেই ছাত্রলীগ নেত্রীর ছবি

Manual4 Ad Code

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অবরুদ্ধ উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে ‘উদ্ধার’ করতে গিয়ে বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারাধর করে ছাত্রলীগ। ওই ঘটনায় হল ছাত্রলীগের এক নেত্রীর কয়েকটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায় ওই ছাত্রলীগ নেত্রী আন্দোলনকারী নারী শিক্ষার্থীদের মারধর করছেন, পোশাক টানছেন।


আলোচিত এই নেত্রী হলেন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা। যদিও তিনি গুরুতর অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন।

আর মারধরের শিকার নারী শিক্ষার্থীদের একজন শ্রবণা শফিক দিপ্তী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবল স্টাডিজ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

Manual6 Ad Code

ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, আন্দোলনকারী দিপ্তীর কাঁধে একটি ব্যাগ রয়েছে, হাতে সোয়েটার। ছাত্রলীগ নেত্রী শায়লা তাকে মারধর করছেন, সেই সোয়েটার ধরে টান দিচ্ছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী চিৎকার দিচ্ছেন।

Manual7 Ad Code

দিপ্তী তার ফেসবুক টাইমলাইনে তিনটি ছবি দিয়ে লিখেন, আজ আন্দোলনে দফায় দফায় ছাত্রলীগ হামলা চালায়। একপর্যায়ে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ে চতুর্দিক থেকে ছাত্রলীগ দ্বারা ঘেরাও থাকা আমরা বের হতে গেলে তারা ভয়ঙ্করভাবে হামলে পড়ে। একপর্যায়ে আমার পেটে একটা লাথি পড়ে এবং আমি কোণায় ছিটকে পড়ি।

তিনি লিখেন, এরপর আমার ভাই, বন্ধু এবং সাংবাদিক ভাইয়েরা আক্রমণকারীদের নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলে এই মেয়েটি তাদের গালিগালাজ করতে করতে ব্যারিকেড ভেঙে আসতে চেষ্টা করে। আমার সাহায্যকারীরা তাকে কোনোমতে গায়ে হাত না দিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছিল। যেটার ছবি ছাত্রলীগের নেতা-নেত্রীরা (ফেসবুকে) শেয়ার করছেন। কিন্তু সেই পর্যায়ে আরেকদিকে আমাদের এক সিনিয়র আপুর বুকে ছাত্রলীগের ছেলেরা ক্রমাগত লাথি দিলে আমার বন্ধুরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যায়।

দিপ্তী বলেন, আমাকে একা পেয়ে এই মেয়েটি ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। আমি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। সে আমাকে তখনও মেরে যাচ্ছিল আর বলে যাচ্ছিল, ‘কেন আন্দোলন করলি? আন্দোলন করে কী বাল ফ্যালাবি আমরা তা দেখে নেবো।’

তিনি লিখেন, ছবিতে আমার উপর হামলা করতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটিকে এবং সে আমার চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে, জামা টান দিয়ে ছিঁড়ছে।

দিপ্তী আরও লিখেন, এখন বলেন কে কাকে নিপীড়ন করেছে? এতো স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেয়ার পরেও আপনারা এই বিভ্রান্তিতে ভাসবেন? নাকি আমাদের উপর ভিসি স্যার ও প্রক্টর স্যারের প্রত্যক্ষ মদদে হওয়া এই বর্বরোচিত হামলার বিচার চাইবেন?

তিনি বলেন, জানিয়ে দিতে চাই, আমি কোন বাম করি না, ছাত্রদল করি না, শিবির করি না, ছাত্রলীগও কখনো করি নাই। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ট্যাগহীন একজন জেনারেল স্টুডেন্ট। বরং আমার বাপ ৯৪ সালের সেই বিতর্কিত মাগুরা-২ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ জানাচ্ছে, নাজমুল হুদা নামে একজন কমেন্ট লিখেন, হল সেক্রেটারী হয়েই কাপড় খোলা শুরু করছে। সংসদে যেতে পারলে তো পুরো জাতিকে নগ্ন করে দিবে।

গোলাম মহিউদ্দিন নামে একজন কমেন্ট করেন, লাভ নাইরে বোন যে দেশে লতিফ সিদ্দীকির বিচার হয় না, তনু হত্যার বিচার হয় না, সে দেশে তোমার মত জেনারেল স্টুডেন্ট এর কথা কেউ কর্ণপাত করবে না। তার চেয়ে চুপ থাকো, নইলে গুম হয়ে যাবে।

Manual1 Ad Code

জানতে চাইলে বাংলাদেশ- কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যেই ছবিটি বের হয়েছ, সেখানে আমি তার কাপড় ছিঁড়িনি। তার গায়ে সোয়েটার ছিল না, তার হাতে সোয়েটার ছিল।

তিনি বলেন, তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে, তবে আমি মারধর করেনি। বরং আমাকে মারা হয়েছে, আমার পেটে লাথি দেয়া হয়েছে। যার কারনে আমি হাসপাতালে।

এদিকে এই ছাত্রলীগ নেত্রীর ছবি দিয়ে ফেসবুকে ফেইক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেয়া হচ্ছে। তার ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লেখা হচ্ছে- ‘দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, যা বিচার হয় মাথা পেতে নেব।’

জানতে চাইলে শ্রাবণী শায়লা বলেন, ‘আমার একটি আইডি যেখানে সাত হাজারের বেশি ফলোয়ার। এ ছাড়া আমার কোনো আইডি নেই। আমি এ ধরনের কোনো স্ট্যাটাস দেইনি। আমি হাসপাতালে অসুস্থ, আমি স্ট্যাটাস কিভাবে দেব।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে অধিভুক্ত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রক্টরের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে দেয়া মামলা প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার দাবিতে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থী’রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে।

Manual6 Ad Code

এসময় তারা উপাচার্যের কার্যালয়ের তিনটি গেট ভাঙচুর করে। ছবিতে দেখা যায়, তারা হেক্সো ব্লেড, রড, লোহার পাইপ, ইট, পাথর দিয়ে পিটিয়ে গেটের তালা, কলাপসিবল গেট ভাঙচুর করে ভিসি কার্যালয়ে প্রবেশ করে।

উপাচার্য তার পূর্বনির্ধারিত মিটিংয়ে যোগ দিতে চাইলে বাধা দেয় আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ঘিরে ধরে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় তানভীর আহম্মেদ মুইন নামে ছাত্র ইউনিয়নের এক কর্মী।

এছাড়া উপাচার্যকে নিয়ে টানাহেঁচড়া, ধাক্কাধাক্কিও করেছে বাম সংগঠনগুলোর কিছু নেতাকর্মী। বাম সংগঠনের এক নারী কর্মীর বিরুদ্ধে উপাচার্যের শার্টের কলার চেপে ধরারও অভিযোগ করেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উপাচার্যকে উদ্ধার করেন। পরে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে রেজিস্ট্রার ভবন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসময় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। আহতদের ২০ জনকে নিজেদের কর্মী দাবি করেছে ছাত্রলীগ। সূত্র : পরিবর্তন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code