বঙ্গবন্ধু হলেন বাঙালির সেই আপন ব্যক্তি

প্রকাশিত: ৩:৫২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৬

বঙ্গবন্ধু হলেন বাঙালির সেই আপন ব্যক্তি

Manual4 Ad Code
download
বিশেষ প্রতিবেদন :: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেন বাঙালির সেই আপন ব্যক্তি, যিনি কিনা এই কথাগুলো আমাদের হয়ে প্রকাশ করেছিলেন। আমরা এই প্রজন্ম তাঁকে দেখিনি, শুনেছি আর পড়েছি কিছু কিছু। দুঃখের বিষয় একাধিকবার এই তরুণ প্রজন্মকে দ্বিধাবিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে মিথ্যা ইতিহাস দিয়ে। সময়ের পটপরিবর্তনের সঙ্গে ইতিহাস বইয়ের পাতার ছবি পালটেছে। এর পরেও কিছু সত্য চাপা থাকে না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সাময়িক অস্থিরতার বাইরে গিয়ে দেখলে তাঁর মতো বিশ্বমানের নেতা পাওয়া আমাদের জন্য ছিল পরম সৌভাগ্যের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া মনে করেন, নেতা অনেকেই হতে পারেন, নেতৃত্বদানের ক্ষমতাও অনেকের থাকতে পারে, কিন্তু এমন নেতা পেয়েছি কজন, যিনি বলবেন, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না! আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই। সেটা শুধু বক্তৃতাই ছিল না, ছিল এক ধরনের অঙ্গীকার।
তরুণ প্রজন্মের চোখে আজ বাংলাদেশের হাজারটা সমস্যা দৃশ্যমান হতে পারে—হরতাল, জঙ্গিবাদ, যানজট, দারিদ্র্য অথবা রাজনৈতিক অস্থিরতা। এতকিছুর পরেও আমাদের কিন্তু গর্ব করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। রাত পোহালেই অন্য কোনো দেশের কাছে কতক্ষণ কুপি বেশি জ্বালিয়েছি সেজন্য কৈফিয়ত দিতে হয় না। সাময়িক অস্থিরতা কখনোই আমাদের মান বিচারের মাপকাঠি হতে পারে না। খুব জোর গলায় কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী ত্বোহা। বঙ্গবন্ধু নিজেই অধিকার আদায়ের ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন ছিলেন। আর আমাদের এ সময়ের আন্দোলন তো সেই খাতিরেই। রিদওয়ান পড়ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিতে, সে বলছিল বঙ্গবন্ধুর সেই তরুণ বয়সের রাজনীতির কথা। বঙ্গবন্ধু তখন স্কুলের ছাত্র, মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন স্কুলে। শেরে বাংলা সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গে রয়েছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। স্কুলের চাল ফুটো হয়ে পানি পড়ে, ছাত্রদের বই-খাতা ভিজে যায়। তো স্কুল-পড়ুয়া মুজিব সেদিন বই-খাতা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দাবির মুখে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিলেন মন্ত্রী সেদিন। তারুণ্যের এই যে শক্তি, সেটা বুঝি তাঁর সেদিনের কর্মকাণ্ড থেকেই বোঝা যায়। আজকের তরুণদের নবজাগরণ দেখলে তিনি কি খুশি হতেন? পাশে এসে দাঁড়াতেন? তিনি তো এমনটাই চেয়েছিলেন? ঘরে ঘরে অন্যায়ের প্রতিবাদে দুর্গ গড়ে তুলতে বলেছিলেন তিনি।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী অহনা ফিরে গেলেন একাত্তরে, মুখে জয়বাংলা আর হূদয়ে বঙ্গবন্ধু—একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বাঙালির এ দুটিই ছিল মূল অস্ত্র। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনায় আজ দেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। নতুন প্রজন্মের এই মহাপুনর্জাগরণে যোগ দিয়েছেন দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতাসহ সর্বশ্রেণি-পেশার মানুষ। তারুণ্যের এই মহাউত্থান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল শক্তিকে সাহস জুগিয়ে বলছে—ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আজ আমরা মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর করছি চারপাশ। ঠিক তেমনি একদিন ৭ই মার্চের ভাষণে সারা জাতিকে এক করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ৭ই মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতিকে অগ্নস্ফূলিঙ্গের মতো উজ্জীবিত করে রাখবে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নোভা মনে করেন, আজকের তরুণ প্রজন্মের প্রেরণাও একই সূত্রে গাঁথা। কেউ কেউ ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ব্রিটেনের জনগণকে জার্মানির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিলের ঐতিহাসিক বেতার ভাষণটির সঙ্গে মিল খুঁজে পান। কিন্তু এটি ছিল লিখিত বক্তৃতা। বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ কোনো লিখিত বক্তৃতা নয়, আত্মোপলব্ধি থেকে তিনি এই জয়গান শুনিয়েছেন। এটা ছিল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্বপ্ন, সাধনা, সংগ্রাম ও ত্যাগের ফসল। গত ৪৫ বছর ধরেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি আবেগ ধরে রেখেছে, যা সারাবিশ্বেই নজিরবিহীন।
এই সময়ের ছেলেমেয়েদের আলোচনায় স্পষ্ট, বঙ্গবন্ধুর বিশাল নেতৃত্বের সহজাত বৈশিষ্ট্যই ছিল বাঙালি জাতির সঙ্গে তাঁর হূদয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলা। জনগণের প্রতি তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল বলেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতি তাঁর প্রবল দায়বদ্ধতার কথা ফুটে উঠেছে। আজীবন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন বলেই সারাটা জীবন সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই। তবুও মনে হয় আজ যদি তিনি থাকতেন, অনেক কিছুই অন্যরকম হতে পারত। বাঙালির যুদ্ধ, জাতিসত্তা গঠন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পিছনে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাহসিকতাপূর্ণ অসাধারণ নেতৃত্ব। আজ ২০১৬ সালেও তিনি সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ, কর্ম, প্রতিটি শব্দ, বাক্য আমাদের জন্য উপযুক্ত ও প্রেরণাদায়ক। আজকে দেশে স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তির মধ্যে যে বিরোধ তাতেও তাঁর বক্তব্য আমাদের জন্য নির্দেশনাস্বরূপ। আজকে তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অবাস্তবায়িত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যাব আমরা।ইত্তেফাক
সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code