মহাজাগতিক নিউট্রিনো আবিষ্কারে নোবেল পেলেন হালজেন

প্রকাশিত: ১০:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬

মহাজাগতিক নিউট্রিনো আবিষ্কারে নোবেল পেলেন হালজেন

Manual5 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্ত এবং মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর উৎস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস মঙ্গলবার তার নাম ঘোষণা করে।

 

হালজেনের স্বীকৃতির মূল ভিত্তি হলো দক্ষিণ মেরুর বরফে নির্মিত ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’। প্রায় এক ঘন কিলোমিটার বরফের মধ্যে ৫ হাজার ১৬০টি আলোকসংবেদী যন্ত্র বসানো এই গবেষণাগার মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও অত্যন্ত শক্তিশালী উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো শনাক্ত করে।

 

নিউট্রিনো অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও প্রায় ভরহীন কণা, যা পদার্থের সঙ্গে খুব কমই মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে কোটি কোটি আলোকবর্ষ পথ পাড়ি দিয়েও এটি প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে নিউট্রিনোকে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও রহস্যময় ঘটনাগুলোর ‘বার্তাবাহক’ হিসেবে বিবেচনা করেন বিজ্ঞানীরা।

Manual4 Ad Code

 

হালজেনের নেতৃত্বে আইসকিউব ২০১৩ সালে প্রথমবার পৃথিবীর বাইরে মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর শক্তিশালী প্রমাণ শনাক্ত করে। সেসময় ২৮টি অত্যন্ত উচ্চশক্তির নিউট্রিনো ঘটনা শনাক্ত হয়েছিল, যার দুটির শক্তি এক পেটাইলেকট্রনভোল্টেরও বেশি ছিল।

 

Manual4 Ad Code

পরবর্তী গবেষণায় নিউট্রিনোর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে কৃষ্ণগহ্বরসমৃদ্ধ সক্রিয় ছায়াপথ ও অন্যান্য চরম মহাজাগতিক পরিবেশের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে আইসকিউবের শনাক্ত করা একটি উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর দিক অনুসরণ করে বিজ্ঞানীরা ‘ব্লাজার’ নামে পরিচিত একটি শক্তিশালী ছায়াপথের সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্কও খুঁজে পান।

 

আইসকিউবের নির্মাণ সম্পন্ন হয় ২০১০ সালে এবং ২০১১ সালে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করে। ২০২৬ সালেও এর সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৫০-এর বেশি বিজ্ঞানী এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত।

Manual4 Ad Code

 

হালজেনের এই স্বীকৃতি নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞানের গুরুত্ব আরও বাড়াল। বিজ্ঞানীদের আশা, এই গবেষণার মাধ্যমে মহাজাগতিক রশ্মির উৎস, কৃষ্ণগহ্বর এবং মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর রহস্য আরও স্পষ্ট হবে।

Manual8 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code