রোজাদারের জন্য নবীজি (সা.)-এর ১০ নির্দেশনা

প্রকাশিত: ৩:১১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

রোজাদারের জন্য নবীজি (সা.)-এর ১০ নির্দেশনা

Manual1 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
রমজান ইবাদতের বসন্ত এবং আল্লাহর সান্নিধ্য ও ভালোবাসা অর্জনের মৌসুম। আর কোনো আমল আল্লাহর দরবারে তখনই পরিপূর্ণ ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়, যখন তা নবী কারিম (সা.)-এর নিদের্শনা অনুসারে আদায় করা হয়। বিশেষ করে সেহরি খাওয়া এবং ইফতার বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। হাদিসে নবী কারিম (সা.) বলেন, হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনটি জিনিস নববি আখলাকের অন্তর্ভুক্ত- দ্রুত ইফতার করা, বিলম্বে সেহরি খাওয়া এবং নামাজে বাঁ হাতের ওপর ডান হাত রাখা। -তাবারানি: ২/১০৮

 

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো, রোজাদারদের উচিত হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত ও নির্দেশনা মেনে চলা। এখানে রোজাদারের প্রতি নবী কারিম (সা.)-এর ১০টি বিশেষ নির্দেশনা তুলে ধরা হলো-

 

রাতে নিয়ত করা: ফরজ রোজার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগেই সম্পন্ন করতে হবে। তবে নিয়ত সম্পন্ন হওয়ার জন্য তা মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়, বরং ব্যক্তির মনের ইচ্ছা, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া এবং সেহরি গ্রহণ নিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে রোজার নিয়ত করবে না, তার রোজা হবে না।’ -সুনানে নাসায়ি: ২৩৩৪

 

সতর্কতার সঙ্গে অজু করা: রোজা রাখা অবস্থায় ব্যক্তি সতর্কতার সঙ্গে নাকে পানি দেবে এবং কুলি করবে। কেননা রোজাদার ব্যক্তির জন্য যদি অজুর সময় রোজার কথা স্মরণ থাকে এবং অসতর্কতার কারণে গলার ভেতর পানি চলে যায়, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘তুমি ভালোভাবে অজু করো, আঙুলগুলোর মধ্যে খিলাল করো। আর তুমি রোজাদার না হলে নাকের গভীরে পানি পৌঁছে দাও।’ -সুনানে তিরমিজি: ৭৮৮

 

অধিক পরিমাণে ইবাদত করা: নবী কারিম (সা.) রমজান মাসে অধিক পরিমাণ ইবাদত করতেন এবং তিনি অন্যদেরও অধিক পরিমাণে ইবাদত করতে উৎসাহিত করতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী কারিম (সা.) সর্বাপেক্ষা বেশি দানশীল ছিলেন। তার দানশীলতা বহুগুণ বর্ধিত হতো রমজানের পবিত্র দিনে যখন হজরত জিবরাইল (আ.) তার সঙ্গে দেখা করতেন। হজরত জিবরাইল (আ.) রমজানে প্রতি রাতে তার সঙ্গে দেখা করে কোরআনে কারিমের সবক দিতেন। নবী কারিম (সা.) কল্যাণ বণ্টনে প্রবাহিত বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন। -সহিহ বোখারি: ৩৫৫৪

 

অবিরাম রোজা না রাখা: ইফতার ও সেহরি না খেয়ে ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা নবী (সা.)-এর সুন্নতের পরিপন্থী। তিনি এমনটি করতে নিষেধ করেছেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) লোকদের ওপর দয়াপরবশ হয়ে তাদের অবিরাম রোজা রাখা থেকে নিষেধ করেন। তখন সাহাবিরা বললেন, আপনি যে অবিরাম রোজা রেখে থাকেন! তিনি বললেন, আমি তোমাদের মতো নই, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করান।’ -সহিহ বোখারি: ১৯৬৪

 

অধিক পরিমাণে দোয়া করা: নবী কারিম (সা.) একাধিক হাদিসে রোজাদার ব্যক্তিকে অধিক পরিমাণে দোয়া করতে বলেছেন। কেননা রোজাদারের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না- সন্তানের জন্য পিতা-মাতার দোয়া, রোজাদের দোয়া ও মুসাফিরের দোয়া।’ -বায়হাকি: ৬৬১৯

Manual5 Ad Code

 

তাহাজ্জুদ আদায়: নবী কারিম (সা.) রমজান মাসে অধিক পরিমাণে তাহাজ্জুদ আদায় করতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানে রাত্রি জাগরণ করবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে জাগ্রত থাকবে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ -সুনানে নাসায়ি: ৫০২৭

 

অন্যকে ইফতার করানো: রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। নবী কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তারও রোজাদারের মতো সওয়াব হবে। কিন্তু রোজাদারের কোনো সওয়াব কমানো হবে না।’ -সুনানে তিরমিজি: ৮০৭

Manual8 Ad Code

 

গুনাহ পরিহার করা: রোজাদার ব্যক্তি যদি রোজার বরকত লাভ করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই গুনাহ পরিহার করতে হবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ তার সঙ্গে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে, আমি রোজা পালন করছি।’ -সহিহ বোখারি: ১৮৯৪

 

শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বৃদ্ধি: নবী কারিম (সা.) শেষ দশকে ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতেন এবং পরিবার-পরিজনকেও ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ দশকে নবী কারিম (সা.) রাত্রি জাগরণ করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং লুঙ্গি শক্ত করে বেঁধে নিতেন।’ -সহিহ মুসলিম: ১১৭৪

 

কদরের রাত অনুসন্ধান করা: রমজান মাসের একটি বিশেষ রাত হলো শবেকদর। এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়া করেন এবং তাদের পাপ মার্জনা করেন। রমজানের শেষ দশকে নবী কারিম (সা.) কদরের রাত অনুসন্ধান করতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে কদরের রাত অনুসন্ধান করো।’ -সহিহ বোখারি: ২০২০

Manual3 Ad Code

 

আল্লাহ সবাইকে সঠিকভাবে রোজা রাখার তাওফিক দিন। আমিন।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)

Manual6 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code