সিলেট ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২৬
মেইল ডেস্ক:
সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং পুনর্নির্মাণে ৩৯৬ কোটি ৭১ লাখ ৮ হাজার ৪৮০ টাকার তিনটি ক্রয় ও ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
এর মধ্যে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ২৬৪ কোটি টাকা এবং ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্বাসনে ১২৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় হবে।
এছাড়া কুষ্টিয়া-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কে রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণে ভেরিয়েশন বাবদ ব্যয় বাড়ছে ৯ কোটি ৫০ লাখ ৫৭৪ টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকের অনুমোদন অনুযায়ী, ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সুরমা নদীর ওপর ২৭৭ মিটার সেতু নির্মাণ করা হবে। এ কাজের জন্য ব্যয় হবে ২৬৪ কোটি টাকা, যা সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। উন্মুক্ত দরপত্রের প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়নে একমাত্র সাড়া প্রদানকারী দরদাতা হিসেবে যৌথ উদ্যোগের একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে বিষয়টি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হলে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই কমিটির সিদ্ধান্ত এবং পানি মডেলিং ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পুনরায় উপস্থাপন করা হয়।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর ওপর ২৭৭ মিটার ক্যান্টিলিভার সেতুর পাশাপাশি দুই পাশে মোট প্রায় ৯৯৮ মিটার উড়াল সেতু এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।
এদিকে কুষ্টিয়া-ত্রিমোহনী-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়কের ৮১তম কিলোমিটারের অংশে রেলবাজার রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। এ প্রকল্পে ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ৯ কোটি ৫০ লাখ ৫৭৪ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল চুক্তিমূল্য ৬৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭৩ কোটি ৫০ লাখ ৫৭৫ টাকা হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের ৭ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের সঙ্গে ৬৪ কোটি টাকার চুক্তি হয়। কাজ চলমান অবস্থায় টেন্ডারভুক্ত ছয়টি আইটেমের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং তিনটি নতুন আইটেম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কাজের পরিধি বাড়ে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লম্ব ছাড়পত্র ১ দশমিক ৩০ মিটার বাড়ানো হয়েছে। এতে সেতুর ভিত্তির উচ্চতা এক মিটার বৃদ্ধি পায়। ফলে সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৩০ মিটার থেকে বেড়ে ৪৩২ মিটার হয়েছে। একই সঙ্গে রিটেইনিং দেয়ালসহ অন্যান্য কাজের পরিমাণও বেড়েছে। ভেরিয়েশনটি মূল চুক্তিমূল্যের তুলনায় ১৪ দশমিক ৮৪৪ শতাংশ বেশি।
প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
অন্যদিকে ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্টের জরুরি পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণে ১২৩ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ৭৪৮ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কাজের জন্য ১৩টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে কারিগরি ও আর্থিকভাবে ৯টি প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সের কাছ থেকে কর ও মূল্য সংযোজন করসহ ১২৩ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার ৭৪৮ টাকায় কাজটি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্পের আওতায় সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট, বিদ্যমান পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ, পাকা কংক্রিট সড়ক নির্মাণ, আরসিসি নালা এবং কংক্রিট ব্লক দিয়ে সুরক্ষা কাজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।
(সুরমামেইল/এমএইচ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি