হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে জ্বালানি নিয়ে ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

প্রকাশিত: ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২৬

হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে জ্বালানি নিয়ে ১৫ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

Manual4 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে জ্বালানি ও শিল্পকারখানার কাঁচামালভর্তি অন্তত ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ–এ পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পখাতের কাঁচামাল রয়েছে।

 

Manual7 Ad Code

শনিবার (৭ মার্চ) বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ওই সময় অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।

 

বন্দর সূত্রে জানা যায়, জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে মোট প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। এসব এলএনজি মূলত রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এই এলএনজি ব্যবহার করা হবে। জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকারও রয়েছে।

 

Manual2 Ad Code

এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেড–এর জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম বলেন, চারটি এলএনজি জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত। তবে ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে। জাহাজটিতে এলএনজি বোঝাই করা হয়েছে এবং এটি প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে। ভবিষ্যৎ চালান নিয়ে আপাতত কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।

 

Manual2 Ad Code

তিনি জানান, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার খোলাবাজার থেকেও বেশি দামে দুটি এলএনজি জাহাজ কিনেছে। তবে সেগুলো এখনো বন্দরে পৌঁছায়নি।

 

এদিকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে রয়েছে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি, যা সোহার বন্দর থেকে আনা হচ্ছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামের আরেকটি এলপিজিবাহী জাহাজ যুদ্ধ শুরুর আগেই বন্দরে পৌঁছায়। ওই জাহাজে ছিল ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি। দুটি জাহাজে মোট প্রায় ৩৫ হাজার টন এলপিজি রয়েছে, যা মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে।

 

এ ছাড়া শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এই কাঁচামাল প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

 

সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও কয়েকটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে ব্যবহৃত হবে।

 

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসা জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। বন্দরে জাহাজ ভিড়ানো, পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার আগে তারা হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে অধিকাংশ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার বড় অংশই জ্বালানি পণ্য। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নতুন জাহাজ আসা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual1 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code