বাংলাদেশি মুদ্রাকে ‘টাকা’ নামকরণ করা হয় যে নোটের মাধ্যমে

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৪, ২০২৪

বাংলাদেশি মুদ্রাকে ‘টাকা’ নামকরণ করা হয় যে নোটের মাধ্যমে

Manual6 Ad Code

সুরমামেইল ডেস্ক :
কথায় আছে- ‘টাকা ছাড়া দুনিয়া চলে না’। আসলেই তাই, এ একটা জিনিস না থাকলে রাস্তা-ঘাটে চলাফেরাও যেন মুশকিল। সংস্কৃত ‘টঙ্ক’ শব্দটিই বহু যুগ আগে মুদ্রা অর্থে বাংলার মানুষের কাছে হয়ে গেছে-টাকা। অনেকে তো এর অর্থও জানেন না; রৌপ্যমুদ্রা। দেশে টাকার বেশ কয়েক ধরনের নোট রয়েছে। ২, ৫, দশ, বিশ, পঞ্চাশ, একশ, পাঁচশ ও হাজার টাকার নোট। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম নোট সম্পর্কে জানেন কি?

 

উপরে যে ছবিটি দেখছেন সেটিই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কাগুজে নোট। এটি ছিল এক টাকার নোট। ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ এ নোট প্রচলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নিজস্ব কাগুজে মুদ্রা চালু হয়। সেই নোট বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল। যেদিন এ নোট দেশের বাজারে ছাড়া হয় সেদিনই বাংলাদেশি কারেন্সিকে ‘টাকা’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

এক টাকার ওই নোট ছাপা হয় ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে। তবে দ্বিতীয় সিরিজে নোট মুদ্রণ করা হয় যুক্তরাজ্য থেকে। যার ডিজাইন অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, কে জি মুস্তফা, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ও শিক্ষাবিদ নীলিমা ইব্রাহিম।

Manual8 Ad Code

 

Manual6 Ad Code

জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের পরামর্শে মুস্​তাফা হাত দিলেন ১ টাকার নোট নকশায়। দুটি নকশা করলেন। প্রতিটি নকশাই পেল দশে-দশ। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ তো প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তারপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে নকশাগুলো নিয়ে যাওয়া হলো। তখন বঙ্গবন্ধু জানতে চাইলেন, ‘এগুলা কি বিলেত থেকে নকশা করায়া আনা হইছে?’ যখন বঙ্গবন্ধু শুনলেন নকশাকার বাংলাদেশেরই, তখন তিনি মহাখুশি হয়ে গেলেন। বললেন, ‘ওকে আমার কাছে নিয়া আসলা না ক্যান?’

 

দ্বিতীয় সিরিজে এক টাকার নোট ইস্যু করা হয় ১৯৭৩ সালের ২ মার্চ। পাঁচ টাকা ১৯৭২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এবং ১০ ও ১০০ টাকার নোট যথাক্রমে ওই বছরের ২ জুন ও ১ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা হয়। তবে বাংলা সিরিয়ালযুক্ত নোট প্রথম চালু হয় ১৯৭৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেসময় বাংলা সিরিয়ালযুক্ত ১০ টাকার নোট ছাপা হয়।

Manual8 Ad Code

 

দেশে প্রথমবারের মতো নোট ছাপা হয় ১৯৮৮ সালে টাকশাল স্থাপিত হওয়ার পর। টাকশাল স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দেশেই সব ধরনের কাগুজে মুদ্রা ছাপা হচ্ছে। তবে ধাতব মুদ্রা এখনও বিদেশ থেকেই আনা হয়। এর আগে সুইজ্যারল্যান্ড, কোরিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও বাংলাদেশের নোট ছাপা হতো।

 

দেশে দুই টাকার নোট চালু হয় ২৯ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সালে। ১৯৭৬ সালের ১ মার্চ ৫০ টাকার নোট চালু করা হয়। আর একই বছর ১৫ ডিসেম্বর বাজারে ছাড়া হয় ৫০০ টাকার নোট। ২০ টাকার নোট প্রথম বাজারে আসে ১৯৭৯ সালের ২০ আগস্ট। ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই বাজারে আসে এক হাজার টাকার নোট।

 

Manual8 Ad Code

(সুরমামেইল/এমএইচ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code