সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

প্রকাশিত: ১:১৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৪

সিলেটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :
টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

 

মঙ্গলবার ১৮ জুন) থেকে পরবর্তীতে নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

মঙ্গলবার সিলেটের বেশ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে তলিয়ে যায় সাদা পাথর, জাফলং, বিছানাকান্দিসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট। জেলার সঙ্গে বন্ধ হয়ে উপজেলাগুলোর অধিকাংশ সড়ক যোগাযোগ।

 

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, মঙ্গলবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া না পর্যন্ত সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির জন্য সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

এর আগে চলতি বছরের ৩০ মে সিলেটের সব কটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া দেওয়া হয়েছিল। পরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে ৭ জুন থেকে খুলে দেওয়া হয়।

 

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫১৮টি আশ্রকেন্দ্র চালু করা হয়েছে সিলেটে।

Manual5 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

এতথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসণ অফিসের দায়িত্বরত অফিসার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিবুল্লাহ আকন বলেন, আজ (বুধবার) সিলেটে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়গণ আসবেন। সেখানে সুনামগঞ্জ জেলার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ত্রাণের পরিমাণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবেন তারা। আমরা এ পর্যন্ত দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পূর্বের দেয়া জিআর চাল ও জিআর ক্যাশ বরাদ্দ থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছি।

 

ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।


আরও পড়ুন : সিলেটের ৪ উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে বন্যার পানি বাড়ছে সিলেটে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুরের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। সেখানকার অধিকাংশ এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়কগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে।

 

এ চার উপজেলার পানিবন্দি মানুষ ছুটছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। শুধু উপজেলা নয়, নগরীর অবস্থাও নাজুক। অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি। সিলেট ছাড়াও সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার, সদরসহ অন্যান্য উপজেলার অবস্থা নাজেহাল। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরীসহ সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলার মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে দেখা যায়।

 

এদিকে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, পিয়াইন, লোভা, ডাউকিসহ সবকটি নদীর পানি বেড়েছে। ১০টি পয়েন্টের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারার পয়েন্টসহ ৬টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীর উপচে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। ফলে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুরে সুরমা নদীর কানাই পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩৬ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার, কুশিয়ার অমলশীদ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৮০সেন্টিমিটার, সারিগোয়াইন পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

 

পাউবো সিলেটে নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Manual1 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টায়) সিলেটে ১৫৩ মিলিমিটার ও মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

সিলেটের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিষয়ে জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠছেন।

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code