এক সপ্তাহের মধ্যে সুনামগঞ্জের দালালচক্রের তথ্য চান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬

এক সপ্তাহের মধ্যে সুনামগঞ্জের দালালচক্রের তথ্য চান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

Manual7 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ থেকে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার সঙ্গে জড়িত দালালচক্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মো. আরিফুল হক চৌধুরী।

 

একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।

 

Manual3 Ad Code

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের কয়েকজন তরুণের মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে যে নয়জন মারা গেছেন এবং এর আগে যারা মারা গেছেন, তাদের সঙ্গে জড়িত একটি চক্র রয়েছে। তাদের বিষয়ে সব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।’

Manual4 Ad Code

 

তিনি বলেন, ‘শুধু মামলা করলেই হবে না, মামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের অবস্থান, যোগাযোগ, বিদেশে থাকা সহযোগী এবং কীভাবে তারা তরুণদের বিদেশে পাঠিয়েছে এসব তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই তথ্য আমাদের কাছে পাঠাবেন। এক সপ্তাহ পরে আমি বিষয়টি মনিটর করব।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসন একটি আন্তঃদেশীয় অপরাধ। তাই শুধু স্থানীয় পর্যায়ে মামলা করে থেমে থাকলে হবে না। চক্রের কেউ বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘সুনামগঞ্জে অবৈধ বিদেশযাত্রা ঠেকাতে শুধু সভা-সেমিনার বা বক্তব্যের মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। বেশি বেশি বক্তব্য দিয়ে লাভ নেই। আমাদের এই কাজগুলো শুরু করতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম একফসলি জেলা। এখানকার মানুষ একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর কোনো না কোনো হাওর তলিয়ে যাওয়ায় কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন ও অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বছরের একটি বড় সময় কর্মসংস্থানের সংকট থাকায় তরুণদের একটি অংশ বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে।’

 

তিনি বলেন, ‘তরুণদের বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশ যেতে আগ্রহী তরুণদের আরবি, জাপানি, চাইনিজ, কোরিয়ান ও ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং, রেফ্রিজারেশনসহ বিদেশে চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এই পাঁচটি নির্বাচনী এলাকায় পাঁচটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র করার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি, ইনশাআল্লাহ।’

 

তবে শুধু ভবন নির্মাণ করে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করলেই হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।’

 

তিনি জেলা প্রশাসককে পরিত্যক্ত সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা ব্যবহার করে দ্রুত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিতে বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণে দুই-তিন বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে এতো সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। চিঠি চালাচালির প্রয়োজন নেই। আমরা দ্রুত কাজ শুরু করতে চাই। আগামীকাল থেকেই আপনারা কতো দ্রুত সেন্টার এবং ভাষা কোর্স চালু করতে পারেন, সেটি দেখুন।’

 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী বিনামূল্যে নেওয়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সুনামগঞ্জের জন্য সেখানে বিশেষ কোটা রাখার চেষ্টা করা হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আগে দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া তরুণদের পরিবারগুলোকে সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করব, সুনামগঞ্জের জন্য সেখানে একটি বিশেষ কোটা থাকবে।’

 

Manual2 Ad Code

সুনামগঞ্জের অসহায় পরিবারগুলো থেকে অন্তত একজন করে মানুষকে বিনা খরচে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভূমধ্যসাগরে যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের ১০ হাজার কর্মীর সুযোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

 

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ঠেকাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে এ কাজে যুক্ত করতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদের ইমামদেরও সচেতন করতে হবে, যাতে জুমার খুতবায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়।’

 

Manual4 Ad Code

একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হব সুনামগঞ্জ থেকেই একটি সচেতনতার বিপ্লব শুরু করা। আমরা অবৈধ পথে বিদেশ যাব না। বৈধ পথে বিদেশ যাব। সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশ যাব না।’

 

নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ বিদেশযাত্রার বিষয়টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নিয়মিত সভায় আলোচনার এজেন্ডা হিসেবে রাখার প্রস্তাব দেন মন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে প্রতি মাসে আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা হয়। সেখানে নিরাপদ অভিবাসনের বিষয়টি নিয়মিত আলোচনা করা হলে মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ হবে। উপজেলা পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করা প্রয়োজন।’

 

এতে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

 

(সুরমামেইল/এসডি)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code