সিলেট ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫
সুরমামেইল ডেস্ক :
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী তার দ্বিতীয় স্ত্রী পারভীন আকতারকে (৪৯) আবারও বিয়ে করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত পরশুদিন ঢাকার একটি বাসায় দুই মেয়ের উপস্থিতিতে কাজীর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। দেনমোহর ধার্য করা হয় দুই লাখ টাকা। বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয়রা ধারণা করছেন, নাছির উদ্দিন হয়তো পারভীন আকতারকে তালাক দিয়েছিলেন। তবে অসুস্থ হয়ে কয়েক মাস একসঙ্গে বসবাস করার পর সমালোচনা এড়াতেই তিনি আবার বিয়ে করেছেন। যদিও সাবেক এমপি তালাক দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তালাক দিইনি, প্রয়োজন পড়েছে তাই বিয়ে করেছি।’
ভিডিওতে দেখা যায়, কাজীর উপস্থিতিতে নাছির উদ্দিন চৌধুরী পারভীন আকতারকে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করছেন। এ সময় তার মেয়েরা উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের একজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
স্ত্রীকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার বিষয়টি প্রচার হওয়ায় বিয়ের পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি অসুস্থ, তাই তালাক দেওয়ার স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে বিয়ে করাই উত্তম হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন, তালাক দেওয়ার পর ওই মহিলার হিল্লা বিয়ের না হওয়ায় বিয়েটি সঠিক হয়নি।
দিরাই উপজেলা যুবদল নেতা মো. মিজান মিয়া তার ফেসবুকে নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বিয়ের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ‘নেতার তৃতীয় বিবাহ সুখময় হোক।’
বিয়ের বিষয়ে নাছির উদ্দিন চৌধুরী বললেন, ‘বিয়েটি হয়েছে ৫-৬ মাস আগে। তাকে (স্ত্রী) তালাক দেইনি, প্রয়োজন পড়ছে তাই দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। ফেসবুকে মানুষ কত কিছুই বলে।’
প্রসঙ্গত, পারভীন আকতার গত ১৮ এপ্রিল দিরাই থানায় অভিযোগ করেছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সৎভাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক চৌধুরী ও তার আপন ভাই মিলন চৌধুরী তাকে ও দুই মেয়েকে দিরাইয়ের বাসায় নির্যাতন করেছেন। সে সময় একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছিলেন মাসুক চৌধুরী ও মিলন চৌধুরী।
এক সময়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতি করা নাছির উদ্দিন চৌধুরী দুই বার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। তার প্রথম স্ত্রী গত এক বছর আগে মারা গেছেন।
(সুরমামেইল/এমকে)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি