অর্থের লোভে বিবাহ সম্পাদন করাসহ নানা অভিযোগ কাজী মোখলেছুর বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৬

অর্থের লোভে বিবাহ সম্পাদন করাসহ নানা অভিযোগ কাজী মোখলেছুর বিরুদ্ধে

Manual7 Ad Code

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
অর্থের লোভে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বিবাহ সম্পাদন ও নিকাহ বাতিলসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোখলেছুর রহমান নামে এক কাজীর বিরুদ্ধে। পূর্বে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে জেলও খেটেছেন কাজী মোখলেছুর। আর জেলা রেজিষ্ট্রার বলছেন সত্যতার প্রমাণ পেলে নেয়া হবে ব্যবস্থা।

 

গেল কয়েকদিন আগে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম (ছদ্ম নাম) এক ব্যক্তির বিবাহের ঘটনা নিয়ে জেলা শহরের গুরুত্বপুর্ন স্থানে প্রশ্ন উঠে। সেই প্রশ্নের জের ধরে বেড়িয়ে আসে কাজী মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের বিষয়।

 

কাগজে কলমে দেখা গেছে, কাজী মোখলেছুর রহমান শফিকুল ইসলামের ছদ্ম নামের ব্যক্তির বিবাহ সম্পাদন করেন। ওই বিবাহের দেন মোহর ধার্য হয় ৩০ লাখ টাকা। প্রশ্ন উঠেছে ওই বিবাহ সম্পাদনের দুদিন পরেই তালাক প্রদানে সম্পাদন করেন, বিবাহ রেজিষ্টারে যা কাজী নিজেই বিবাহ বাতিল বলে লিখে দেন। যা রিতিমত নিয়মবর্হিভুত। আরো অভিযোগ রয়েছে নিয়ম না থাকলেও শুধু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিয়ে সম্পাদন ও তালাক দুটোই করেছেন তিনি।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাগজে কলমে তালাকনামা প্রদান করলেও উভয়েই সংসার করছে ভালভাবে। তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ জীবন গড়িয়েছে দুই বছরের বেশি সময়।

 

Manual3 Ad Code

কাজী মোখলেছুর এর আগেও বিয়ের এমন একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারাবরণ করেছেন। তারপরেও এ ধরনের অন্যায় কাজ চলমান রখেছেন। এছাড়াও অর্থের বিনিময়ে বাল্য বিবাহ, পুর্বের তারিখ দেখিয়ে বিবাহ সম্পাদন এবং তালাকনামা প্রদান, ভিন্ন ভিন্ন বই সংগ্রহে রাখা। তার এমন অন্যায় কাজের ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পারিবারিক জীবন।

Manual6 Ad Code

 

স্থানীয়দের দাবি, জেলা রেজিষ্ট্রার কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকা বা যোগসাজসে এ ধরনের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যদি জেলা রেজিষ্ট্রার কর্মকর্তাদের যোগসাজস না থাকে তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কাজী মোখলেছুরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

Manual8 Ad Code

 

রেজিষ্ট্রার অফিসের দায়িত্বরতরা বলছেন, অর্থের লোভে আইনি ও ধর্মীয় নিয়ম তোয়াক্কা না করে বিবাহ সম্পাদন একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ, যা নৈতিক অবক্ষয় এবং প্রতারণার শামিল। বৈধ অভিভাবকের সম্মতি বা সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে, কিংবা প্রথম বিয়ে গোপন রেখে অর্থের লোভে পুনরায় বিয়ে করা শরিয়াহ এবং দেশের আইন অনুযায়ী, যেমন- দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৯৪ ধারা আইনত দণ্ডনীয়। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।

 

এ বিষয়ে কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, ত্রিশ লাখ টাকা দেন মোহরানার বিয়ে ও পরবর্তিতে বিবাহ বাতিল (তালাক) প্রদান করার কাজটি করা অন্যায় হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের চাপে তা করতে হয়েছে। আর জেল খাটার বিষয়টিও ভুল বোঝাবুঝির কারনে হয়। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়গুলোকে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলছেন আগামীতে সতর্ক থেকে কাজ করবেন।

 

Manual8 Ad Code

আর এ বিষয়ে জেলা রেজিষ্ট্রার মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি শুনেছি। বিয়ের দুদিন পর বিবাহ বাতিল (তালাকের) কাজ সম্পাদন করা নিয়মে নেই এবং কি তালাক রেজিস্টার আলাদা, কাজী তা করতে পারেন না। কাজী বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

(সুরমামেইল/এমআই)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code