জগন্নাথপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান, বাঁশের বেড়া অপসারণ

প্রকাশিত: ১:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২৬

জগন্নাথপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান, বাঁশের বেড়া অপসারণ

Manual5 Ad Code

​জগন্নাথপুর সংবাদদাতা:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হবিবনগরে সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী পাঁচটি অসহায় পরিবারকে বাঁশের বেড়া দিয়ে গৃহবন্দী করার ঘটনার অবসান হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তীব্র ক্ষোভ ও কঠোর হস্তক্ষেপে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মাথায় অবরুদ্ধ অবস্থার পুরোপুরি অবসান হয়। অপসারণ করা হয়েছে চলাচলের পথে দেওয়া সেই বাঁশের বেড়া।

 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অমানবিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (২৪ জুন) বিকালে নির্বাহী কার্যালয়ে দুই পক্ষ নিয়ে বসা হয়। অভিযুক্ত ভূমিখেকো চক্রকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়া অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন নিজেই বেড়া গুঁড়িয়ে দেবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে অবরুদ্ধকারীদের দেওয়া বেড়া অপসারণ করা হয়।

 

​এদিকে গত তিন দিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোতে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। ঘর থেকে বের হতে না পেরে এবং যাতায়াতের প্রধান পথ বন্ধ থাকায় পরিবারগুলো চরম খাদ্য ও পানি সংকটে দিনাতিপাত করছিল।

Manual2 Ad Code

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অবরুদ্ধ থাকাকালীন তারা নদীর পানি খেয়ে এবং চিঁড়ে-মুড়ি ও কলা-রুটি খেয়ে কোনোমতে বেঁচে ছিলেন। এমনকি অবরুদ্ধ পরিবারের শিশুরাও স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে পারেনি।

 

​ভুক্তভোগী হলুদা আক্তার ও সুমা আক্তার জানান, দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তারা এই সরকারি খাস জমিতে (ইকড়ছই মৌজা) ঘর বাড়ি তৈরি করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। কিন্তু স্থানীয় ভূমিখেকো চক্র আশিক মিয়া ও আমির আলী গংরা সরকারি এই জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে অন্যায় ও অমানবিক উপায়ে তাদের যাতায়াতের প্রধান মুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেড়া অপসারণ হওয়ায় পরিবারগুলোর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

Manual5 Ad Code

 

​ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসে।

 

ভুক্তভোগী হলুদা আক্তার জানান আমি ধন্যবাদ জানাই নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভুমি কর্মকর্তা কে ধন্যবাদ জানান আইন দেশে আছে, নিরীহ মানুষরা বিচার পায়। আমি খুশি আজ গৃহবন্দী থেকে মুক্তি পেয়েছি।

 

Manual8 Ad Code

বৈঠক শেষে জগন্নাথপুরউপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসীন উদ্দিন জানান, আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছি। বুধবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে ঘটনার একটি স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারি জায়গা নির্ধারণ করে লাল ফ্লাগ দিয়ে আসবো।

 

​এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং অবরুদ্ধ পথ থেকে বেড়া তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গায় কোনো ধরনের অবৈধ দখলদারিত্ব মেনে নেওয়া হবে না। যে যে অবস্থায় আছে, থাকবে। বৃহস্পতিবার সকালে উক্ত সরকারি জায়গাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল পতাকা (লাল ফ্লাগ) টানিয়ে দেওয়া হবে।

 

(সুরমামেইল/জিডি)

Manual7 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code