বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিতে বিএসএফকে জমি দিচ্ছে শুভেন্দু সরকার

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দিতে বিএসএফকে জমি দিচ্ছে শুভেন্দু সরকার

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দেড় মাসের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

 

সোমবার রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ছয়টি সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

সরকারের প্রথম বৈঠক নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজকে আমরা প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর তথা বিএসএফের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়া অনুমোদন দিলাম এবং আজ থেকেই ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

Manual5 Ad Code

“ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে; যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন। এই কাজটা আজকে প্রথম কেবিনেটে আমরা করলাম।”

 

Manual8 Ad Code

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া লিখেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অরক্ষিত’ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়া নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল, যা বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

 

দ্য ওয়াল লিখেছে, ‘অরক্ষিত’ সীমান্ত বিজেপির নির্বাচনি প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ‘অরক্ষিত’ থাকায় বাংলাদেশিরা ‘অবৈধভাবে’ প্রবেশ করতে পারছে এবং ভোটের বিনিময়ে তারা সেখানে থেকে যেতে পারছে।

 

গত জানুয়ারিতে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে ৯টি জেলায় সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল।

 

সীমান্তে কাঁটাতারের ‘অননুমোদিত’ বেড়া নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

Manual8 Ad Code

 

১৯৭২ সালের ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির আলোকে ১৯৭৫ সালে সীমান্ত কর্তৃপক্ষের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।

 

তার ভিত্তিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেছিলেন, শূন্যরেখার ১৫০ গজের ভেতরে কেউ কোনো প্রতিরক্ষা স্থাপনা করতে পারবে না। ওই ১৫০ কাজের ভেতরে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করতে গেলে একে অপরের সম্মতি নিতে হবে।

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, জনশুমারি সংক্রান্ত ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের একটি চিঠি পেয়েও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।

 

তিনি বলেন, “চিঠিটি ২০২৫ সালের ১৫ জুন পাঠানো হয়েছিল। সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি বাংলার মানুষ, দেশ এবং সংবিধানের সাথে একটি বিশ্বাসঘাতকতা ছিল। এখন বাংলায় জনশুমারি জরিপ শুরু হবে।”

 

ফৌজদারি কার্যবিধির বদলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা নামে যে আইন হয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করারও ঘোষণা দেন তিনি।

 

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেবে নতুন রাজ্য সরকার।

 

তার সরকার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ জটে আটকে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের স্বস্তি দিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করেছে।

 

এছাড়া ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’সহ সব ধরনের কেন্দ্রীয় নারীকল্যাণ প্রকল্প রাজ্যে অবিলম্বে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

Manual1 Ad Code

 

(সুরমামেইল/এমকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code