ভূমধ্যসাগরে নিহত ১১ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনই সুনামগঞ্জের!

প্রকাশিত: ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নিহত ১১ বাংলাদেশির মধ্যে ৭ জনই সুনামগঞ্জের!

Manual5 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
লিবিয়া থেকে সাগর পথে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে অন্তত ১১ বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৭ জনই সুনামগঞ্জের বলে জানা গেছে।

 

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানির সংকটে তাদের চোখের সামনেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলোতে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সেগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন তারা।


।আরও পড়ুন


ধারণা করা হচ্ছে নিহত অধিকাংশ যুবকের বাড়ি সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। তবে এখনো তাদের বিস্তিারিত পরিচয় জানা যায়নি।

 

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি।

 

নৌকাটি ঝড়ের কবলে পড়েছিল। এতে খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপরও বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে।

 

টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর বাতাসের স্রোতে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছে যায়। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের ছেলে আব্দুল করিম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা ৪২ জন গ্রিসের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলাম। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর আমাদের নৌকার ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আর সামনে এগোতে পারিনি।’

Manual7 Ad Code

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমাদের কাছে খাবার বা পানি কিছুই ছিল না। চোখের সামনে নয়জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়েছে। পরে আরও দু’জন মারা যান। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে পঁচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে।

 

তিনি বলেন, আমরা এখন মারসা মাতরুহ হাসপাতালে ভর্তি। এখানকার চিকিৎসকরা আমাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং ভালো খাবারেরও ব্যবস্থা করছেন। আমাদের বাঁচান। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।

 

নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৭ জন বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্রে। তাদের পরিচয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

Manual5 Ad Code

 

এরআগে গত মার্চে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সুনামগঞ্জের ১৩ জন মারা যান।

 

(সুরমামেইল/এসডি)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code