সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ‘প্রকৃত অপরাধীরা যেন পার পেয়ে না যায়’

প্রকাশিত: ৫:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: ‘প্রকৃত অপরাধীরা যেন পার পেয়ে না যায়’

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীর রায়নগরে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানরা।

 

Manual6 Ad Code

তারা বলেছেন, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অসচ্ছতা দেখা গেলে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের আবেদন করা হবে।’

 

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রায়নগরের ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নিহতদের স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে দম্পতির ছেলে আরিফ ইফতেখার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় নিহতদের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানাও উপস্থিত ছিলেন।

 

গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগরের ওই বাসা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার কলোনির বাসিন্দা বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

 

Manual2 Ad Code

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে কথিত প্রেমের সম্পর্কের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করেন তিনি। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। গতকাল (রোববার) বাবুলকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

 

তবে পুলিশের এই ‘প্রেমঘটিত’ ব্যাখ্যা শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছেন নিহত দম্পতির সন্তানরা। তাদের দাবি, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ আড়াল করতেই এমন একটি গল্প সামনে আনা হচ্ছে।’

 

এ ঘটনায় ১৪ আগস্ট রাতে নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে জমি সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই বিরোধের জেরে একটি প্রভাবশালী চক্র ভাড়াটে খুনি দিয়ে তিনজনকে হত্যা করিয়েছে।

Manual2 Ad Code

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার বলেন, ‘মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে প্রকৃত অপরাধীরাও যেন পার পেয়ে না যায়। এজন্য মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘পুলিশের তদন্তে অসচ্ছতা বা অসন্তোষজনক কোনো বিষয় দেখা দিলে তারা মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করবেন।’

 

তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি নিহতদের স্বজনরা। তারা বলেন, ‘সত্য কখনো চাপা থাকে না। একসময় তা প্রকাশ পাবেই।’

 

সংবাদ সম্মেলনে নিহত আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে তাদের মরদেহ বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমকর্মী ও সবার প্রতি অনুরোধ জানান পরিবারের সদস্যরা।

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual6 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code