সিলেটে তিন খুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন বাবুল

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬

সিলেটে তিন খুন: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন বাবুল

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট নগরীতে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

চারদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

Manual8 Ad Code

সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা তার জবানবন্দি নেওয়া হয়। পরে রাত ৯টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল হক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

 

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, আসামি বাবুল মিয়া দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

বাবুল জবানবন্দিতে নতুন কোনো তথ্য দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখন প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

 

এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাবুল মিয়াকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে তোলা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।

 

গত ১২ আগস্ট সকালে নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।

 

ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার কলোনির বাসিন্দা বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

 

ওইদিন পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।

 

Manual1 Ad Code

পুলিশের দাবি, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন সকালে তিনি ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি এতে অমত প্রকাশ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।

 

একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানায়। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান বলে পুলিশের দাবি। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে ১৪ আগস্ট রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। তাদের দাবি, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা।

 

মামলার এজাহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তাঁর বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

 

১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

(সুরমামেইল/এফএ)

Manual8 Ad Code


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code