লোভনীয় অফারে সিলেটে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতকারী ‘আঁখি সুপার শপ’র পরিচালক দম্পতি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

লোভনীয় অফারে সিলেটে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতকারী ‘আঁখি সুপার শপ’র পরিচালক দম্পতি গ্রেপ্তার

Manual5 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
‘১টি কিনলে ১টি ফ্রি’ অফারে কোটি টাকা আত্মসাৎ করা আঁখি সুপার শপের পরিচালক আসমা-আলম দম্পতি গ্রেপ্তার। পলাতক থাকার প্রায় সাড়ে চার বছর পর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’সহ শতভাগ ক্যাশব্যাকের লোভনীয় অফার দেখিয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হওয়া ‘আঁখি সুপার শপ’-এর পরিচালক আসমা শারমিন ওরফে আঁখি (৩২) ও তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Manual1 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

পলাতক থাকার প্রায় সাড়ে চার বছর পর গত রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহী থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে আঁখিকে রাজশাহীর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে এবং জাহাঙ্গীরকে পাবনার বেড়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Manual6 Ad Code

 

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

ফেসবুকের প্রচারণায় শতভাগ ক্যাশব্যাকের ফাঁদ
একাধিক মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিলেট শহরতলির বটেশ্বর গইলাপাড়া এলাকায় ‘আঁখি সুপার শপ’-এর কার্যালয় ছিল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফেসবুক পেজে মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক্স ও বিভিন্ন গ্রোসারি পণ্যের ওপর ৩০ ও ৯০ দিনের বিশেষ প্যাকেজের লোভনীয় প্রচারণা চালাত।

 

২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য ফ্রি’ তথা শতভাগ ক্যাশব্যাকের অফার দেওয়া হয়। অফারে আকৃষ্ট হয়ে গ্রাহকরা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও টাকা জমা দেন। তবে ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই কার্যালয় তালাবদ্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় পরিচালক দম্পতি।

 

১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
গ্রাহক ও পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। প্রতারণার শিকার হয়ে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে টাকা ফেরত ও তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবিতে নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করেন গ্রাহকেরা।

 

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসমা শারমিনের বিরুদ্ধে ১৫টি এবং তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ২টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

 

যেভাবে ধরা পড়ল প্রতারক দম্পতি
বাগমারা থানার এসআই শিহাব উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে মামলা হওয়ার পর থেকে এই দম্পতি অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে আসছিলেন। তাঁরা মূলত গাজীপুরে অবস্থান করে গোপনে অনলাইনে তেল বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন।

 

সম্প্রতি পুলিশের অনুসন্ধানে পিরোজপুরের হাফিজুর রহমানের নামে নিবন্ধিত একটি মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গত রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে এই দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

Manual3 Ad Code

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code