মামলায় জিতেছেন সৌদি বাদশাহর ‘গোপন স্ত্রী’

প্রকাশিত: ১:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৫

মামলায় জিতেছেন সৌদি বাদশাহর ‘গোপন স্ত্রী’

Manual6 Ad Code

soudi

সুরমা মেইলঃ মরহুম সৌদি বাদশাহ ফাহাদের ‘গোপন স্ত্রী’ বলে দাবিদার এক নারী লন্ডনের হাইকোর্টে মামলা করে কয়েক শ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। আদালত ওই নারীকে সবমিলিয়ে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের (২ কোটি ৩১ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫) বেশি নগদ অর্থ এবং লন্ডন শহরের অভিজাত এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্লাটের মূল্য পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ওই নারীকে আজীবন ভরন পোষনের দায়িত্ব নিতে হবে সৌদি সরকারকে।

Manual7 Ad Code

তার নাম জানান হার্ব, বয়স ৬৮। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ওই নারী দাবি করেছেন, সৌদি বাদশাহ ফাহাদ ১৯৬৮ সালের মার্চে তাঁকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন। তাদের বিয়ে হয়েছিল সৌদির আল শারাফিয়া রাজপ্রাসাদে। কিন্তু তিনি খ্রীষ্টান পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বাদশাহ ফাহাদের পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি । যদিও বিয়ের আগে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তার দাবি অনুযায়ী সিংহাসনে বসার আগেই তাকে বিয়ে করেছিলেন ফাহদ। তিনি তিন তিনবার গর্ভবতীও হয়েছিলেন। কিন্তু ফাহদের অনুরোধে গর্ভপাত করান। পরে রাজ পরিবারের বিরোধিতার মুখে ১৯৭০ সালে সৌদি আরব ত্যাগ করেন হার্ব। এরপরই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তখন ওই নারীকে আজীবন দেখভালের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাদশাহ ফাহদ যা তিনি পূরণ করেননি। এরই মধ্যে আরো দু দুবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন হার্ব যদিও এর কোনটিই টেকেনি। অন্যদিকে বাদশাহ ফাহদও পুনরায় বিয়ে করেন এবং প্রিন্স আবদুল আজীজসহ একাধিক সন্তান সন্ততির জনক হন।

Manual1 Ad Code

মামলায় জানান হার্ব আরো অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগে বাদশাহ ফাহাদ যখন গুরুতর অসুস্থ, তখন তাঁর ছেলে প্রিন্স আবদুল আজিজ লন্ডনের ডরচেষ্টার হোটেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সেসময় প্রিন্স আবদুল আজিজ তাঁকে আশ্বাস দেন যে, রাজপরিবার তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে।বাদশাহ ফাহাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রিন্স আবদুল আজিজ তাঁর সৎ মাকে ১২ মিলিয়ন পাউন্ড(১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ৯শ ডলার) নগদ অর্থ ছাড়াও চেলসির দুটি ফ্ল্যাট দেয়া হবে বলে জানান।

কিন্তু লন্ডনের হাইকোর্টে পেশ করার লিখিত বিবৃতিতে প্রিন্স আবদুল আজিজ এরকম কোন প্রতিশ্রুতির কথা অস্বীকার করেছেন। কিন্তু হাইকোর্ট এই মামলায় জানান হার্বের পক্ষেই রায় দিয়েছে। হাইকোর্টের জারিকৃত রুলে জানান হার্বকে ২ কোটি ৩১ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং লন্ডনের চেলসিতে দুটি বাড়ীর মূল্য বাবদ আরও ১ কোটি ডলার দিতে হবে।

ওই রায়ে আরো বলা হয়েছে, প্রিন্স আজিজ এই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে জরিমানা বাবদ কোনো দাতব্য সংস্থাকে ৩ কোটি ৮৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫ ডলার দান করতে হবে।

Manual8 Ad Code

মামলার এ রায়ে হার্ব সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন,‘আমি ১২ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। ব্রিটিশ বিচারকের এই রায়ে আমি খুশি।’ তবে আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছেন সৌদি প্রিন্স।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code