সিলেট ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৬
সুরমা মেইল নিউজ : বাংলাদেশে সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার জন্য প্রতিবেশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাসগুপ্ত বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। সম্প্রতি হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার বিষয়টি ঢাকার কাছে উত্থাপন করতে ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি ও ইকোনোমিক টাইমসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম পিটিআই-এর বরাত দিয়ে এ সংবাদে প্রকাশ করেছে।
মানবাধিকার কর্মী রানা দাসগুপ্ত বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দুরা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মৌলবাদি ও জামায়াত শক্তি বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি ভারত একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তাদের কিছু করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অত্যন্ত আশাবাদী। এ বিষয়ে তার ব্যবস্থা নেয়া উচিত এবং বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের কাছে উত্থাপন করা উচিত। মোদির বাংলাদেশি হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গেল ১০ জুন ৬০ বছর বয়সী হিন্দু আশ্রম কর্মী নিত্যরঞ্জন প্নান্ডেকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্দেহভাজন ইসলামি জঙ্গিরা। বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ কর্মীদের ওপর পাশবিক সিরিজ হামলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিহতদের মধ্যে চতুর্থ তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত দাবি করেন, ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মৌলবাদি গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্মূল করতে চায়। বিগত দুই বছর যাবত ধর্মীয় উৎখাতের এই চেষ্টা আরও গতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদি রাষ্ট্র হিসেবে রেখে ভারতীয় উপমহাদেশে কখনই স্থিতিশীলতা অর্জন করা যাবে না। সুতরাং ভারত যদি এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা চায়, তাহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বিনাশ বন্ধ করতে হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এক হিন্দু পুরোহিত, এক খ্রিস্টান মুদি দোকানি ও এক সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যা করার সপ্তাহেই খুন করা হয় পান্ডেকে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে মন্দিরে এক হিন্দু পুরোহিতকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় এবং তার সহযোগী এক ভক্তকে গুলি করে আহত করা হয়।
রানাদাসগুপ্ত বলেন, গত এপ্রিলে রাজশাহী শহরে এক উদারপšি’ অধ্যাপককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই মাসে এক হিন্দু দর্জিকে তার দোকানে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং বাংলাদেশের প্রথম সমকামীদের অধিকার বিষয়ক ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও তার বন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারপন্থী’ ব্লগারদের ওপর একইভাবে সিরিজ হামলা হয়েছে।
বাংলাদেশে হিন্দুদের অব্সথা ভয়াবহ উল্লেখ করে রানা বলেন, যদিও আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার রয়েছে। কিন্ত তৃণমূল পর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ। ধর্ষণ, খুন, লুঠ, অগ্নিসংযোগ, হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
অভিনেতা ও বাংলাদেশ চলচিচত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় পিটিআইকে বলেন, ভারত এ বিষয়ে চাপ প্রয়োগ না করলে বাংলাদেশ তার মৌলবাদী অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াবে না। ভারত এ অঞ্চলের অন্যতম পরাশক্তি। তার প্রতিবেশি দেশে যখন সংখ্যালঘুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচেছ, তখন তারা চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
হিন্দু পুরোহিত ও আশ্রম কর্মী নিহতের পরপর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। হাইকমিশনের এমন দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন বন্দ্যোপাধ্যায় ও দাসগুপ্ত। তারা বলেছেন, ভারতের আরও অনেক কিছু করতে হবে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য অধিক নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছেন বাংলাদেশের হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার কর্মীরা।
এদিকে, এ ধরণের হত্যাকা-কে বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে প্রকৃতপক্ষে মৌলবাদিরা ও জামায়াত এই অপকর্ম করছে।
তথ্যমন্ত্রী ফোনে পিটিআইকে বলেন, এসব হামলা মূলত সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে করা হচেছ না। প্রকৃত লক্ষ্য হলো আমাদের সরকারকে কলঙ্কিত করা এবং দেশকে একটি মৌলবাদি রাষ্ট্রে পরিণত করা। আমরা কখনই তা করতে দেব না। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় আমরা কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় ভারত ভূমিকা রাখতে আগ্রহী হলে ঢাকা কি করবে?’- এমনটা জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত খুব ভাল বন্ধু । তারা যদি আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে চায়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এতে কোন ক্ষতি নেই।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি