সুরমা মেইল নিউজ : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, অশুভ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালে ফেলা হয়। জনগণও এ কথা বিশ্বাস করে। সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরা, রিমান্ডে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং উত্তরার খালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার একই যোগসূত্রে গাঁথা একটি মহাপরিকল্পনার অংশ।
বুধবার (২২ জুন) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।
গত ১৯ ও ২০ জুন রাজধানীর উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ী খাল থেকে ৯৭টি পিস্তল, ৪৬২টি ম্যাগাজিন, ১০টি বেয়োনেট ও সহস্রাধিক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত পিস্তলের মধ্যে ৯৫টি সেভেন পয়েন্ট ৬২ বোরের চাইনিজ পিস্তল, বাকি ২টি স্থানীয়ভাবে তৈরি।
তিনি বলেন- পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে মনে হয়েছে তিনি আওয়ামী লীগ নামীয় দলটির পোর্টফোলিও হোল্ডার। পৃথিবীর কোনো দেশে যেখানে ন্যুনতম আইনের শাসন আছে, সেখানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দায়িত্বশীল বক্তব্য রাখেন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভুদের অন্যায় আচরণের নির্লজ্জ অনুসরণ করেন না।
রিজভী আহমেদ বলেন- এই অস্ত্রগুলি আনা হয়েছিল অপরাধীদের জন্য, যারা অপরাধ সংঘটন করে। মানুষের মনে আরও সন্দেহ তীব্র হয়ে উঠেছে যে, কিভাবে প্রকাশ্য দিনের বেলায় নম্বরছাড়া একটি কালো রঙের পাজেরো গাড়ি এই বিপুল অস্ত্র খালে ফেলে চলে গেল। কারণ, এলাকাটি তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ। সুতরাং অশুভ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালে ফেলা হয়েছিল বলে জনগণ বিশ্বাস করে।
বিএনপির এই নেতা বলেন- যে অস্ত্রগুলি উদ্ধার হয়েছে, এ ধরনের অস্ত্র মূলত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীরাই আমদানি ও ব্যবহার করে থাকে। পিস্তলগুলোর মধ্যে ৯৫টিই ৭.৬২ বোরের পিস্তল, যা পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীই ব্যবহার করে। এটি আর রহস্যের মধ্যে নেই। ক্রমাগতভাবে রহস্যের কুয়াশা ভেদ করে মানুষের মনে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া তুরাগ নদীর খালে এ অস্ত্রগুলো পৌঁছাত না।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়ার পরে তার স্বল্পভাষিতায় আমরা প্রথমে মনে করেছিলাম, তিনি দৈত্যকূলে প্রহ্লাদ হবেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তিনি তার পূর্ববর্তীদেরই অনুগামী, আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুন-অর রশিদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, যুবদলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সম্পাদক কাজী রফিক প্রমুখ।