সিলেট ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:০৩ অপরাহ্ণ, মে ৬, ২০১৭
আলী হোসেন, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি :: গোয়াইনঘাটের তোয়াক্কুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কর্তৃক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের বিশেষ বিজিএফ এর আওতায় বরাদ্ধকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠে ইউপি চেয়ারম্যানের উপর। জনরোষে ইউপি চেয়ারম্যান। এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল।
সরেজমিনে জানা যায়- গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন হতে তোয়াকুল ইউপি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা চাওয়া হয়। তারই প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যানের খালেদ আহমদ ইউপি সদস্যদের জানান, উপজেলা প্রশাসনকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৩০০ পরিবারের নামের তালিকা প্রদানের জন্য। তাতে চেয়ারম্যানের জন্য ২০টি পরিবারের নাম রেখে ২৮০টি পরিবারের নাম দিবেন ইউপি সদস্যরা। কিন্তু সে অনুযায়ী সদস্যরা তালিকা জমা দেন।
তোয়াকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ আহমদ ইউপি সদস্যদের অবহিত না করে উপজেলা প্রশাসন বরাবরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৪৮৪ পরিবারের তালিকা প্রদান প্রেরন করেন এবং সেই অনুযায়ী মাথা পিছু ৩০কেজি হারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারে জন্য ১৮হাজার ৩শত ৯২কেজি বিপরিতে ৩৬৮বস্থা চাল বরাদ্ধ হয়।
গত ৩ মে বুধবার উপজেলা খাদ্য গোদাম হতে ইউপি চেয়ারম্যান ৩৬৮বস্থা চালের স্থলে ৩৫২বস্থা চাল গ্রহন করে, খাদ্য গোদামের তালিকায় ৩৬৮বস্থ চাল গ্রহন করা হয়েছে বলে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ৪মে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের কাছে ৩৬৮বস্থার স্থলে ৩৫২ বস্থা চাউল রয়েছে জানতে চায়। তখন ১৬বস্থা চালের হাদিস জানতে চাইলে ইউপি সদস্যদের সাথে চেয়ারম্যানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায় এলাকাবাসী ইউপি সদস্যদের সাথে যুক্ত হয়ে তোয়াকুল ইউপি চেয়ারম্যান খালিদ আহমদকে প্রায় ১ঘন্টা অবরোধ করে রাখে ইউনিয়ন অফিসে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট(এডিসি শিক্ষা) সৈয়দ আমিনুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ১৬বস্থা চাউলের বিষয় খতিয়ে দেখবেন বলে এলাকাবাসী ও ইউপি সদস্যদের জানান।
বৃহস্পতিবার দুপর ৩টায় ১৬বস্থা চাউল গোদাম হতে নিয়ে আসা হলে এলাকাবাসী তা আটক রাখে, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ গিয়ে ইউপি সদস্যদের জিম্মায় পরিষদের একটি কক্ষে রেখে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড সদস্য লোকমান হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য ফরিদ আহমদ, ৫নং ওয়ার্ড সদস্য রজব আলী, ২নং ওয়ার্ড সদস্য আলা উদ্দিন, কান্দিগ্রামের জালাল উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য সামসুদ্দিন, বাউল গ্রামের তাহির আলী, তোতা মিয়া, লাকী গ্রামের করিম উল্লাহ জানান, চতুর চেয়ারম্যান পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৬বস্থা চাউল আত্মসাতের লক্ষ্যে তিনি ইউপি সদস্যদের ৪৮৪পরিবারের তালিকার স্থলে আমাদেরকে ৩০০পরিবারের তালিকার কথা বলেন। তন্মধ্যে ২০টি পরিবার চেয়ারম্যনের নিজের জন্য বরাদ্ধ রাখেন। কিন্তু কি করে চেয়ারম্যান ৪৮৪পরিবারের তালিকা প্রশাসনকে দিলেন তা তাদের জানা নেই। যখন বরাদ্ধের ৩৬৮বস্থ চাউলের বিপরীতে ৩৫২বস্থা চাইল কম আসার কারন জানতে চাইলে খালেদ আহমদ ক্ষিপ্ত হন এবং আইনের শিক্ষা না দিতে ইউপি সদস্যদের ধমকদেন। ফলে সদস্যরা ১৬বস্তা চাউলের অনুসন্ধানে নামেন। উত্তেজিত এলাকাবাসী চেয়ারম্যানকে কার্যলয়ে অবরোধ করে রাখে।
তারা আরও বলেন, যে তালিকায় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে সেই তালিকায় এক ব্যাক্তির নাম ২বার দেখানো হয়েছে। প্রায় ২০ হতে ২৫টি পরিবারের যৌথ নাম বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকায় লিপিবদ্ধ রয়েছে। এক পরিবারের এক জনের নামের স্থলে একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। ৪ মে ঘটনায় তোয়াকুলবাসী সন্ধ্যা ৭টায় স্থানীয় বাজারে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট খাদ্য গোদামের কর্মকর্তা আব্দুল আহাদ বলেন, প্রথমে এ বিষয়ে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদকে অনুরোধ করে বলেন। পরে পরিবহন সংকটের কারণ দেখিয়ে বলেন, ১৬বস্থা চাল মানবিক কারণে ১৬ বস্থা তার জিম্মায় রাখেন।
এ বিষয়ে তোয়াকুল ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ আহমদ জানান, বন্যা ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা ১দিনের মধ্যে তৈরী করায় কিছুটা ভূল হয়েছে তা সংশোধনের জন্য প্রেরন করেছি। চাউল আত্মসাতের কোন ঘটনা ঘটেনি। একটি পক্ষ আমাকে হেও প্রতিপন্ন করতে এমন ঘটনা সাজিয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট (এডিসি শিক্ষা) সৈয়দ আমিনুর রহমান জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আমি। তাদের আভ্যন্তরিন একটি সমস্যা রয়েছে। তালিকার বিষয়টি তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আমরা ত্রাণের চাউল বিতরণে কোন প্রকার গফিলতি কিংবা অনিময় করতে দিব না এক্ষেত্রে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রাখবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট প্রেরন করি। তিনি ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। খাদ্য গোদাম কর্মকর্তার গফিলতি রয়েছে বলে জানান এবং এঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি