সিলেট ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২৬
রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
অণুর দুটি পরস্পর বিপরীত প্রতিচ্ছবির মধ্যে জীবনের জন্য কেন একটি রূপই প্রধান—দীর্ঘদিনের এই রাসায়নিক রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি রসায়নবিদ হেনরি কাগন ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই।
বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তাদের নাম ঘোষণা করেG নোবেল কমিটির মতে, জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অরৈখিক প্রভাব এবং অসমমিত সংশ্লেষণে স্বয়ংক্রিয় অনুঘটন প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
অ্যামিনো অ্যাসিডসহ কিছু অণু দুটি আয়না-প্রতিচ্ছবি রূপে থাকতে পারে। দেখতে একই হলেও এ দুটি রূপ রাসায়নিকভাবে এক নয়। অথচ জীবদেহে সাধারণত এদের একটি রূপই দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ‘হোমোকাইরালিটি’। কেন জীবনের রসায়ন একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি বেছে নিয়েছে, তা রসায়নবিদদের কাছে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল।
হেনরি কাগন ১৯৮৬ সালে এমন একটি রাসায়নিক পদ্ধতি দেখান, যার মাধ্যমে একটি প্রতিচ্ছবি তৈরির ওপর আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। পরে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা নিয়ে গবেষণা প্রকাশ করেন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির সম্ভাবনা দেখা যায়। ২০০৩ সালে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট প্রতিচ্ছবি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেন।
এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু মৌলিক রসায়নে সীমাবদ্ধ নয়। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রেও অণুর সঠিক প্রতিচ্ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ একই রাসায়নিক উপাদানের দুই প্রতিচ্ছবির একটি কাঙ্ক্ষিত কার্যকর ফল দিতে পারে, অন্যটি ভিন্ন আচরণ করতে পারে। ফলে নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ তৈরিতে অসমমিত সংশ্লেষণের এই জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালে ধাতু-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম ইয়াগি রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন।
(সুরমামেইল/এমকে)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি