সিলেট ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘ইউএনওকে ‘আপা’ ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। তবে এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বনফুলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল।’
ইউএনও জানান, সম্প্রতি তিনি ক্রেতা সেজে বনফুলের তাজপুর শাখায় যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, পুরোনো বা বাসি মিষ্টি বিক্রি করা হচ্ছে। মিষ্টির উৎপাদনের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্মচারীরা একেকজন একেক ধরনের তথ্য দেন। পরে চালানপত্র দেখতে চাইলে প্রথমে তা দেখাতে গড়িমসি করা হয়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম উপস্থিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানো হয়।
তিনি বলেন, ‘তদন্তের একপর্যায়ে একজন কর্মচারী স্বীকার করেন নতুন মিষ্টির সঙ্গে পুরোনো মিষ্টি মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর ম্যানেজারকে উপস্থিত করতে বলা হলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে তাকে খুঁজে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়।’
মুনমুন নাহার আশা বলেন, ‘যে কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে চলে গিয়েছিলেন, তিনি পরে এসে আমাকে আপা বলে সম্বোধন করে ক্ষমা চান। কিন্তু জরিমানার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। আমি তখনও বলেছি, কাউকে ‘আপা’ ডাকা কোনও অপরাধ নয়। তাকে এ কারণে কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি এমনকি জরিমানাও করা হয়নি। জরিমানা করা হয়েছে বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন সরকারি কর্মচারী। আমাকে অনেকেই আপা, খালা বা অন্য সামাজিক সব সম্বোধনেই ডাকেন। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী, কাজেই আপা ডাকায় জরিমানা করার কোনও সুযোগ নেই, আপা ডাকা কোনও দণ্ডনীয় নয়, এটা আইনেও নেই। অথচ বিষয়টিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছে যে সম্বোধনের কারণে জরিমানা করা হয়েছে। এটি সত্য নয়। হয়তো সেটা ভাইরাল করার জন্য করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনও ব্যক্তিকে নয়, প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। জরিমানার অর্থ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেছে এবং তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়াও একই বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আপা ডাকাকে কেন্দ্র করে কোনও ঘটনা নয়। পণ্যের মান ও বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়েছে।’
এর আগে বুধবার (৩ জুন) ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর ‘ইউএনওকে আপা ডাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’- এমন শিরোনামে কয়েকটি সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ভাইরাল হয়। এরপর ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে জানায়, জরিমানার কারণ ছিল বাসি মিষ্টি বিক্রি, কোনও সম্বোধন নয়।
(সুরমামেইল/এমএনআই)
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি