আবুধাবিতে কারখানায় আগুন, ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২৩

আবুধাবিতে কারখানায় আগুন, ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

Manual7 Ad Code

ছবি সংগৃহীত


সুরমামেইল ডেস্ক :
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি আসবাবপত্র কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে আবুধাবির শারজাহ শহরে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

 

Manual2 Ad Code

নিহতদের সবার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়। তারা হলেন, সেনবাগের ডমুরুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তারাবাড়িয়া গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে মো. ইউসুফ মিয়া (৪৫), একই গ্রামের মীর হোসেনের ছেলে তারেক হোসেন বাদল (৪২) ও আবদুল ওহাবের ছেলে মো. রাসেল (২৬)।

 

ডমুরুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন কানন বলেন, একসঙ্গে তিন প্রবাসীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের দাবি মরদেহগুলো যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

 

নিহত রাসেলের মা শরীফা বেগম বুকচাপড়ে কান্না করে বলেন, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাসেল ছিল দ্বিতীয়। ঢাকার একটি ব্যাগ কারখানায় চাকরি করে সংসার চালাতো সে। তিন বছর আগে সে বিয়ে করেছে। দেড় বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে তার। জীবিকার তাগিদে ও পরিবারের খরচ চালাতে প্রায় ৬-৭ লাখ ধারদেনা করে ২০২২ সালে আবুধাবিতে যায় রাসেল।

Manual1 Ad Code

 

রাসেলের স্বজনরা জানান, একই এলাকার আরও কয়েকজন থাকায় ওই সোফা কারখানায় চাকরি করতো রাসেল। প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত ১টার দিকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে। পরদিন রাতে ডিউটি আছে তাই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়বে বলে মোবাইলে বিদায় নেয় রাসেল। মঙ্গলবার দুপুরে আবুধাবিতে থাকা এলাকার লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে রাসেল মারা গেছে। পরিবারের অভাব-অনটনের মধ্যের একটু ভালো থাকার আশায় ধারদেনা করে রাসেলকে পাঠানো হয়েছিল সেখানে। এখন সবই শেষ।

 

নিহত ইউছুফ মিয়ার বড় ছেলে মহিনুল ইসলাম মিলন বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে আবুধাবি যায় তার বাবা ইউছুফ মিয়া। এরপর থেকে সোফা কারখানাটিতে চাকরি করতেন তিনি। সবশেষ গত পাঁচ বছর আগে দেশে এসেছিলেন। গত এক বছর আগে মালিকের কাছ থেকে কারখানাটি ক্রয় করে নিজের দেশের শ্রমিক দিয়ে সেটি পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। দীর্ঘধিন কষ্ট করে একার আয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ভালো সময় আসার সঙ্গে সঙ্গে এমন দুর্ঘটনা আমাদের পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

 

এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে তারেক হোসেন বাদলকে হারিয়ে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন বাবা মীর হোসেন। চার ছেলের মধ্যে দুই জনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। এরই মধ্যে চলে গেলেন বাদল।

 

মীর হোসেন বলেন, কয়েক বছর ওমান থাকার পর ভিসায় সমস্যা থাকায় গত বছর দেশে এসে ৮ মাস আগে আবুধাবি যায় বাদল। একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত একজনসহ তার তিন ছেলে রয়েছে। দুই ছেলে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সংসার চালানোর দায়িত্ব তার কাঁধে ছিলো। বাদল চলে যাওয়ায় আমাদের পরিবারের সব শেষ হয়ে গেছে।

 

Manual3 Ad Code

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের দাবি যেহেতু আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। শরীরের যেটুকু অংশ রয়েছে সেটুকু যেনো বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code