কবরে নেই লাশ! উপজেলা জুড়ে তোলপাড়, পাহাড়ায় গ্রামবাসী

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

কবরে নেই লাশ! উপজেলা জুড়ে তোলপাড়, পাহাড়ায় গ্রামবাসী

Manual5 Ad Code

প্রিয়জনের লাশের সন্ধানে, চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। কবরে লাশ নেই; এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাত্র দুই-আড়াই ফুট ফাঁক করে অভিনব পদ্ধতিতে একের পর এক কবরের লাশ (কংকাল) চুরির ঘটনায় গ্রামবাসী হতবাক। এবার প্রিয়জনের ‘লাশ রক্ষা’য় পাহাড়া দিচ্ছেন গ্রামবাসী। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠছে ইউনিয়নবাসী।

লাশ বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ময়মনসিংহে আকির হোসেন, রাসেল মিয়া আর হযরত আলী নামে তিনজনের বিবাদ হয়। এরপরই লাশ চুরির ঘটনা ফাঁস হয় ময়মনসিংহে।

লাশ বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ময়মনসিংহে আকির হোসেন, রাসেল মিয়া আর হযরত আলীর ঝগড়া শুনতে পান ভাংনামারী ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নয়ন মিয়া। এ চক্রের তিনজনের বাড়িই তার এলাকায়। তিনি রোববার বাড়িতে তার ভাই ফয়সাল ইসলামকে ফোনে এ তথ্য জানান।

Manual6 Ad Code

নয়ন মিয়ার দাদা ওয়াহেদ আলী ও দাদী কদরবানুর কবরে লাশ আছে কী-না জানতে চান? পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে দেখেন, দুটি কবরেই দুই-আড়াই ফুট করে গর্ত (ফাঁকা)। কবরে লাশ নেই! এরপর ছুটে আসেন আত্মীয়-স্বজনও।

এই চক্রের লাশ চুরির ঘটনা শুনে ভাংনামারী ইউনিয়নের হাজী আবদুল মজিতের ছেলে আবুল হাসাদ বাচ্চু ছুটে যান মায়ের কবরে। কবরের মাথার অংশে দুই-আড়াই ফুট ফাঁকা দেখে চমকে উঠেন। মায়ের লাশ আছো-কী না নিশ্চিত হতে, গ্রামবাসীকে নিয়ে কবরের মাটি সরিয়ে দেখেন লাশ নেই। স্ত্রীর লাশ নেই এ কথা শুনেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন হাজী আবদুল মজিদ।

Manual2 Ad Code

বাচ্চু জানান, তার মা নুরজাহান বেগম প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। মায়ের শোক ভুলতে পারছেন না, এবার মায়ের লাশও নেই। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দিনে দুবার মোনাজাত করতাম।

Manual4 Ad Code

এলাকার মানবাধিকার কর্মী ফয়সাল ইসলাম জানান, মৃত্যুর পর কবরকে শান্তির জায়গা বলা হয়, আজ সেই করব থেকে লাশ চুরির ঘটনায়-আমরা বিস্মৃত।

গ্রামবাসীর ধারণা, বিশেষ ধরনের কোনোযন্ত্র দিয়ে পুরো লাশ এ ফাঁকা অংশ দিয়েই সহসায় চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে এ চক্রটি।

Manual8 Ad Code

এরপরেই স্বজনের লাশের সন্ধানে চলে করব খোঁড়াখুঁড়ি। এরপরে কুলিয়ারচর গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী হাসনা আক্তারের কবর খুঁড়ে লাশ পাওয়া যায়নি। তিনি মারা যান প্রায় দুই বছর পূর্বে। তিন বছর পূর্বে মারা যান মৃত একিন আলীর পুত্র মোর্শেদ আলী। তার কবরেও লাশ নেই।

গজারিয়া গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে আবদুর রাজ্জাক জানান, তার ভাই আবু চান ও সালেহা খাতুনের কবরেও লাশ নেই। একই গ্রামের মৃত বাছির উদ্দিনের স্ত্রী জুবেদা খাতুনের কবরেও লাশ নেই। সূত্র : যুগান্তর

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code