চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, চালক ও হেলপার গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১১:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৫

চলন্ত বাসে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, চালক ও হেলপার গ্রেপ্তার

Manual7 Ad Code

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী চালক সাব্বির আটকের পর রাতে ধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা বাসের হেলপার লিটন মিয়াকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯।

 

মঙ্গলবার (১৭ জুন) র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

 

এরআগে সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে র‌্যাব-৯’র সদর কোম্পানি ও শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের যৌথ আভিযানে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন জালালপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

গ্রেফতার হওয়া বাসের হেলপার লিটন মিয়া (২৬) সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রশিদপুর গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। এরআগে গ্রেফতার হওয়া বাস চালক সাব্বির মিয়া (২৭) নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের এনাতাবাদ গ্রামের ফকির আলীর ছেলে।

 

Manual7 Ad Code

নবীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ঢাকার একটি কলেজের ছাত্রী বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। গত রোববার ঢাকা থেকে দাদার বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে যাওয়ার জন্য বিলাশ পরিবহণের একটি বাসে ওঠে ঘুমিয়ে পড়েন ওই তরুণী। বাস থেকে শায়েস্তাগঞ্জ নামার কথা থাকলেও ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় বাসটি মৌলভীবাজারের শেরপুর চলে যায়।

 

পরে শেরপুর থেকে নবীগঞ্জ হয়ে বানিয়াচং যাওয়ার জন্য ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি বাসে উঠে ওই তরুণী। বাসটি বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠানো-নামানোর সময় ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে পড়ে। নবীগঞ্জ আউশকান্দি এলাকায় পৌঁছার পর অন্যান্য যাত্রীরা নেমে গেলে বাসে ওই তরুণী একা হয়ে পড়েন। তখন একা পেয়ে প্রথমে বাসের হেলপার ও পরে চালক তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

 

পরে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার তিন তালাব পুকুর পাড় এলাকায় পৌঁছালে তরুণীর চিৎকারে স্থানীয়রা সেনাবাহিনীকে খবর দেন।

 

রাত ১২টার দিকে নবীগঞ্জ-আউশকান্দি-শেরপুর সড়কের তিনতালাব এলাকায় স্থানীয়রা বাসচালককে আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন এবং তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তবে কৌশলে হেলপার লিটন পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে তরুণী নিজেই নবীগঞ্জ থানায় সাব্বিরকে প্রধান ও লিটনকে ২য় আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে ওই তরুণীকে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

Manual3 Ad Code

ওইদিন সকালে ঘটনাস্থল নবীগঞ্জের তিন তালাব এলাকা পরিদর্শন করে ও থানায় গ্রেফতারকৃত আসামীর সঙ্গে কথা বলেন, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান। পরে পুলিশ সুপার হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে দেখা করেন এবং সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস দেন।

 

এসময় পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন,ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রী অনেক অসুস্থ্য ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, তাকে কেউ যেন ডিস্টাব না করার জন্য অনুরোধ করেন।

 

এদিকে ধর্ষনের ঘটনার পর পর সটকে পড়েন ধর্ষণকারীদের মূলহোতা হেলপার লিটন। গ্রেফতার এড়াতে লিটন আত্মগোপনে চলে যায়। অন্যদিকে লিটনকে গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Manual2 Ad Code

 

সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিলেট এর সদর কোম্পানী এবং সিপিসি-৩ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এর যৌথ আভিযানিক দল সিলেট জেলার দক্ষিন সুরমা থানাধীন জালালপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার ২৪ ঘন্টার ভিতরে দায়েরকৃত মামলার আসামী ধর্ষণকারীদের মূলহোতা বাসের হেলপার লিটন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

(সুরমামেইল/এমএএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code