জামালগঞ্জে সরকারী প্রকল্পের টাক আত্মসাত! ইউপি সদস্যসহ ৫জনকে টাকা ফেরতের চিঠি

প্রকাশিত: ২:০৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৭

জামালগঞ্জে সরকারী প্রকল্পের টাক আত্মসাত! ইউপি সদস্যসহ ৫জনকে টাকা ফেরতের চিঠি

Manual3 Ad Code

শুভেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ থেকে :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে আওয়ামীলীগ দলীয় ২ ইউপি সদস্যসহ ৫ জন কে টিআর, কাবিটা’র প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাদের অভিযোগে আত্মসাদকৃত সরকারী প্রকল্পে টাকা ফেরত দিতে চিঠি দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে। বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারী টাকা ও চাল বরাদ্ধ নিয়ে ওই প্রকল্পের কোন কাজ না করিয়ে টাকা আত্মসাত করার জন্য প্রথমে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এর ক’দিন পর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা টাকা ফেরতের চুড়ান্ত চিঠি দিয়েছেন।

সরকারী আদেশ মতে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর সরকারী টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত এখনো কোন প্রকল্প সভাপতি টাকা ফেরত দেননি। তবে ইউপি সদস্যারা জানিয়েছেন, ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত দিতে চেয়েছি, কিন্তু যে কোড নাম্বারের টাকা দিবো সেটি অফিস দিতে পারেনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের দাবী ৫ জনকে সরকারী টাকা ফেরতের চিঠি দেয়া হয়েছে। টাকা ফেরতের পক্রিয়াও চলছে, না দিলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান।

Manual4 Ad Code

গত ১৫ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের পত্রের সূত্রে অনুযায়ী জানা যায়, ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরের টিআর (সাধারন) প্রথম পর্যায়ে উপজেলা সদর ইউনিয়নের লক্ষীপুর লালনের বাড়ী সামনে থেকে নদীর পাড়ের যাতায়তের রাস্তা মেরামতের জন্য ৩ মেট্রিকটন গম বরাদ্ধ নেন জামালগঞ্জ সদরের সংরক্ষিত ইউপি সদস্যা ও ইউনিয়ন আ’লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা শারমীন সুলতানা।

বরাদ্ধ পেয়ে কোন কাজ না করেই তিনি বরাদ্ধের টাকা আতœসাতের চেষ্টা করেন। প্রথম নোটিশ পেয়ে কাজ না করায়, ১৫ ই ডিসেম্বর চুড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয় টাকা ফেরতের জন্য। ২ মেট্রিকটনের সরকারী হিসাব মতে ৭২ হাজার ৬ শত ৭০ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। একই অর্থ বছরের টিআর ২য় পর্যায়ে জামালগঞ্জ সদরের লক্ষীপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদ মাটি ভরাট ও উমেদপুর মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ নেন জামালগঞ্জ সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম। তাকে ৫০ হাজার টাকার পরির্বতে ২৫ হাজার টাকা ফেরত প্রদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৫-’১৬ অর্থ বছরের সাধারন টিআর (টেষ্ট রিলিফ) ১ম পর্যায়ে নয়াহালট বড় মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য ৪.৫ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিলো ইউপি সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউর রহামানকে। তিনি কাজ না করায় ৭২ হাজার ৬ শত ৭০ টাকা ফেরতের চিটি দেওয়া হয়েছে। জামালগঞ্জ সদরের ভুইয়ার হাটি-হিন্দু কালীপুর গ্রামের সামনের রাস্তায় ভাঙ্গা মেরামত ও মমিনপুর মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনে টিআর ২য় পর্যায় থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ নেন ইউপি সদস্য মনির হোসেন। কাজ না করানোর জন্য ৫০ হাজারের স্থলে ৩০ হাজার টাকা ফেরতের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভীমখালী ইউনিয়নের শ্রীপুর এলজিইডি ব্লক রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্য টিআর ২য় পর্যায় থেকে ৪০ হাজার টাকা নগদ অর্থ বরাদ্ধ নেন ছোট ঘাগটিয়া গ্রামের জহুর মিয়ার পুত্র আল আমিন। কাজ না করেই টাকা আত্মসাত করার জন্য ৪০ হাজার টাকা ফেরতের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

Manual2 Ad Code

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, আমি গ্রাম বাসী ও মসজিদ কমিটির সাথে কথা বলে সোলার প্যানেলের পরিবর্তে একটি ষ্টীলের বড় গেইট ও মসজিদের জানালা তৈরী করে দিয়েছি। মসজিদ কমিটি এ ব্যাপারে আমাকে একটি প্রত্যায়নও দিয়েছেন। এর পরেও কেন আমাকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য পত্র দেওয়া হয়েছে তা আমার বেধগম্য নয়।

জামালগঞ্জ সদরের প্যানেল চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, আমি সহ আমার পরিষদের ৩ জনকে টাকা ফেরতের চিঠি দিয়েছে পিআইও অফিস। আমরা টাকা ফেরত দিতেও প্রস্তুত, কিন্তু অফিস কোন কোডে টাকা ফেরত নেবেন তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা জমা দিতে পারছিনা।

Manual3 Ad Code

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া জানান, জামালগঞ্জে ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরের টিআর ১ম ও ২য় পর্যায়ে নগদ অর্থ ও খাদ্য শস্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিলো। কাজ না করানোর জন্য প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ১৫ দিনের নোটিশ প্রদান করেন। ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না করা ও সুষ্ট জবাব না দেওয়ায় টাকা ফেরতের চুড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। টাকা ফেরতের পক্রিয়া অব্যাহত আছে, টাকা ফেরত না দিলে আইনগত ব্যাস্থা নেয়া হবে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code