তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রেডে যোগ হচ্ছে

প্রকাশিত: ৪:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রেডে যোগ হচ্ছে

Manual4 Ad Code

দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২১ নভেম্বর ২০০২ সালে ১২৫ করে ২৭৫ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়। চুক্তি মোতাবেক তারিখ হতে পরবর্তী ৩৮ মাসের মধ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ তারিখে শেষ হয়। বড়পুুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট উপকেন্দ্রের ক্ষমতা ২   ১৫৬ এমভিএ, প্রকল্প এলাকার আয়তন ২৮২ একর এর অধিক।

জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দেশজ কয়লা। কয়লার বাৎসরিক চাহিদা ৭ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন। স্থায়িত্বকাল ৩০ বছর। প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৬শ ৩৪ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। স্থানীয় মুদ্রা ৬৯৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা ৯শ ৪১ কোটি ১০ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিউবো পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্লানের আলোকে ১৯৯১ সালে জাপান কনসাল্টিং ইন্সটিউট (জেসিআই) নামক একটি জাপানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন জ্বালানি অপশনের আওতায় আর্থিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের একটি সমীক্ষা কার্যক্রম হাতে নিয়েছিলেন। জেসিআই কর্তৃক বিউবো এর নিকট ১৯৯১ সালের মে মাসে প্রতিবেদন পেশ করেন।

Manual7 Ad Code

বড়পুকুরিয়ার উত্তোলনযোগ্য কয়লা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে খনির মুখে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন। খনি বাস্তবায়নের কাজ ১৯৯৪ সালে শুরু হলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রকল্পের পিসিপি ২৬ ডিসেম্বর ১৯৯৪ সালের একনেক বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

পরবর্তীতে প্রকল্পের পিসিপি এবং পিপি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। পিপি অনুসারে প্রকল্প নির্মাণে উল্লেখ্য টাকা ব্যয় করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১৬মে ১৯৯৯ সালে প্রকল্পের বৈদেশিক উপদেষ্টা হিসেবে মেসার্স ফিসনার, জার্মানির সাথে বিউবোর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে স্থান নির্বাচন জমির পরিমাণ নির্ধারণ ও অধিগ্রহণ করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসিক এলাকার জন্য ৪০ একর এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২৬০ একর মোট ২৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। চুক্তির আওতায় চেিনর সিএমসি, এসইসি এবং এসইইসি কনসোর্টিয়াম এর প্রস্তাব গৃহীত হয় ১০ জুন ২০০১ তারিখে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর মোট ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

Manual1 Ad Code

২০০২ সালে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর ২৩ এপ্রিল ২০০৩ সালে প্রকল্পটি উদ্ভোধন করা হয়। অপরদিকে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩ বছর প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩য় ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২৭৫ মেগাওয়াট ৩য় ইউনিট নির্মাণ কাজ শেষ। গত ২০১৭ সালের জুলাই মাসে চায়না হারবিন কোম্পানি প্রকল্পের কাজ শুরু করেন।

Manual8 Ad Code

গত ২৭/১০/২০১৭ ইং তারিখে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (এমপি) পরিদর্শনে এসে কাজের উন্নয়ন দেখার পর তিনি বলেন, পরবর্তীতে ২০০০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট তৈরি করা হবে। এখানে ছিপনির মুখে ৯৯% দক্ষতা বিশিষ্ট্য এবং নিম্ন তাপমাত্রা বিশিষ্ট্য ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর সংুক্ত করা হয়েছে। উড়ন্ত ছাই কণা বাতাসে মিশ্রনের ঝুঁকি থাকবেনা।

বর্জ্য পানি শোধন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং সিস্টেম ও অন্যান্য উৎস হতে নিঃসরিত বর্জ্য পানি আধুনিক পদ্ধতির কেমিক্যাল ওয়াটার ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধিত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নক্সায় শব্দ দূষণ নির্ধারিত লক্ষ্য মাত্রার মধ্যে রাখার জন্য তত্ত্ব, উপাত্ত ও উপাদান সন্নিবেশিত করা হয়েছে। পরিসীমার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫ ডেসিবেলে বেশী শব্দ কম্পন হবে না। বিদ্যুৎ কেন্দ্র জনিত ভূমিকম্পন নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুটি ইউনিট থেকে মোট ৫৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করা হচ্ছে। মোট ২টি ইউনিটে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৬৭৪ কোটি ৮৫ লক্ষ  ৬৪ হাজার এর অধিক পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হয়।

Manual3 Ad Code

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান এর সাথে গতকাল কথা বললে তিনি জানান, নির্মাণকৃত নতুন ৩য় ইউনিট থেকে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে উত্তরাঞ্চলের শিল্প কলকারখানা ও কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code