ফাহিমা হত্যা: স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে থেকে শিশুটিকে খুঁজেছেন আসামি

প্রকাশিত: ১০:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

ফাহিমা হত্যা: স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে থেকে শিশুটিকে খুঁজেছেন আসামি

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে ডোবা থেকে চার বছর বয়সী ফাহিমা আক্তার নামে শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনার জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

পুলিশ বলছে, তদন্ত চলাকালে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জাকির স্বজনদের সঙ্গে শিশুটিকে খুঁজেছেন এবং পুলিশের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেছেন।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) সিলেট মহানগর পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

Manual5 Ad Code

Manual1 Ad Code

সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। হত্যার শিকার শিশুটি বুধবার নিখোঁজ হয়। পরে শুক্রবার ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।



লাশ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি শিশুটির বাবার চাচাতো ভাই।

Manual2 Ad Code

 

সংবাদ সম্মেলনে উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর এলাকাবাসী যখন শিশুটিকে খুঁজছিল, তখন জাকিরও তাদের সঙ্গে ছিল। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার সময়ও সে মানুষের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। পরে চাপ বাড়লে সে নিজেই বিষয়টি প্রকাশ করে।’

 

জাকিরকে সন্দেহ করার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল যে এলাকার কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাই আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। ওই এলাকায় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন জাকির। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে সবকিছু স্বীকার করে।’

 

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বুধবার জাকিরের ঘরে যায় শিশুটি। ওই সময় জাকির একা ছিল, তার স্ত্রী বাপের বাড়িতে ছিলেন। এ সময় জাকির শিশুটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে তাকে দোকানে সিগারেট আনতে পাঠায়। সিগারেট নিয়ে ফেরার পর প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে নেশাগ্রস্ত জাকির। এরপর শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলাটিপে হত্যা করা হয়।

 

জিজ্ঞাসাবাদে জাকির পুলিশকে জানায়, “হত্যার পর সে শিশুটির লাশ তার ঘরের খাটের নিচে একটি ব্রিফকেসে রাখে। পরে এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে সেখান থেকে সরিয়ে বাড়ির নিচে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে পাশের একটি ডোবায় লাশ ফেলে সে পালিয়ে যায়।’’

 

জাকিরের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে বলেও জানান উপ-কমিশনার।

 

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

 

মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে করা হলেও মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর তাতে নতুন ধারা যুক্ত হবে বলে জানান উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম।

 

Manual2 Ad Code

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code