হবিগঞ্জ-সিলেট পথে বাস বন্ধ, দুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: ১১:২৯ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২৬

হবিগঞ্জ-সিলেট পথে বাস বন্ধ, দুর্ভোগ চরমে

Manual4 Ad Code

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারে বাসে ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতি।

 

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে ধর্মঘট চলছে হবিগঞ্জ থেকে সিলেটগামী তিনটি পথে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী, শিশু ও রোগীরা।

 

বাস শ্রমিকরা জানান, সকাল থেকে হবিগঞ্জ-মাধবপুর, হবিগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার-শেরপুর-সিলেট এবং হবিগঞ্জ-সিলেট সরাসরি (নবীগঞ্জ-শেরপুর বাইপাস হয়ে) পথে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের সিলেটগামী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, অনেকে ছোট ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে বাড়তি ভাড়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

Manual6 Ad Code

 

বাস মালিক ও শ্রমিকরা জানান, হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট পথটি মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে গেছে। দুই বছর ধরে এ পথে হবিগঞ্জের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধ চলছে দুই জেলার মালিক সমিতির মধ্যে। এ নিয়ে একাধিকবার হামলা, পাল্টা হামলায় বাস চলাচল বন্ধের ঘটনাও ঘটেছে।

Manual1 Ad Code

 

সবশেষ গত রোববার (১০ মে) মৌলভীবাজারের কিছু শ্রমিক শেরপুর সেতু এলাকায় অবরোধ করেন এবং বাস আটকে দেন। এটি মৌলভীবাজারে প্রবেশের পথ। এর পাল্টা হিসেবে টোলপ্লাজা এলাকায় বাস আটকে দেন হবিগঞ্জের শ্রমিকরা। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। তখন কয়েকটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সেদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কার্যত বন্ধ ছিল এই মহাসড়কে যান চলাচল।

Manual1 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

সোমবার (১১ মে) সারাদিন বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১২ মে) হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেন হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল।

 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় দুই পক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ মালিক। দ্বন্দ্ব নিরসনে আলোচনা হয় সিলেট বিভাগের পরিবহন মালিক নেতাদের সঙ্গেও। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি।

 

মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রব মিয়ার অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র রয়েছে হবিগঞ্জের মাত্র আটটি বাসের। বাকি গাড়িগুলো অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন। তাই সেগুলো চলতে দেওয়া হবে না আমাদের জেলার ওপর দিয়ে।

 

তিনি বলেন, হবিগঞ্জের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ নেই। এটি দুই বাস মালিক সমিতির অধিকার আদায়ের বিষয়।

 

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, গাড়ির কাগজপত্রের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের। মৌলভীবাজারের বাসে যাত্রী কম হওয়ায় তারা বাধা দিচ্ছে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে। এ পথে হবিগঞ্জের বাসের নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। প্রয়োজনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করারও হুমকি দেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, দুই মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাস না চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

 

(সুরমামেইল/এমএকে)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code