সিলেট ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৭
অনলাইন ডেস্ক :: মানব সভ্যতার অনেক বিষয়ই এখনও রহস্যাবৃত। মিশরের পিরামিড থেকে ভারতের তাজমহলের মতো স্থাপনাগুলো সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে। প্রাচীন এসব স্থাপনা বা স্থানগুলি রহস্যময় হলেও সাধারণ মানুষ সে সব স্থানে যেতে পারে। কিন্তু আধুনিক মানব সভ্যতার এমন কিছু সংগঠন বা স্থান আছে যা শত ভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করে। তাদের সম্পর্কে জানা প্রায় অসম্ভব। তবু বিভিন্ন পত্রিকা এবং সামরিক ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে সেই সব রহস্যময় গোপন স্থান গুলো সম্পর্কে সামান্য কিছু জানতে পারা যায়। বিশ্বের এমনি পাঁচটি রহস্য ঘেরা স্থান সম্পর্কে কিছু তথ্য-
“মস্কো মেট্রো ২”– স্তালিনের আমলে গড়ে উঠেছিল মস্কো মেট্রো ২ নামের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এই আন্ডারগ্রউন্ড সিটি। রাশিয়ার অন্যতম গোপন স্থান এটি। কিন্তু রাশিয়ার সরকারের তরফ থেকে কখনই এর অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। রাশিয়ার অধিকাংশ মানুষ মনে করে এটি ক্রেমলিনের সাথে এফএসবি হেডকোয়াটারের সংযোগ স্থাপন করেছে। রাশিয়ার এই গোপন শহর সম্পর্কে কিছু পত্রিকার সামান্য কিছু তথ্য ছাড়া শহরটি সম্পর্কে মানুষ এখন পর্যন্ত কিছুই জানে না। পৃথিবীর অন্যতম নিষিদ্ধ এ স্থানের আশেপাশে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে যেখানে মহাকাশে মানুষের পদধূলি পড়েছে সেখানে এই শহরে আসলে কি হয় তার বিন্দুমাত্র মানুষের জানা নেই। তবে অনেকের ধারণা এই মেট্রো শহরেই রাশিয়া তার গোপন পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
“কক্ষ ৩৯”– কক্ষ ৩৯ মূলত একটি গোপন সংগঠন। ১৯৭০ সালে গঠিত এই সংগঠনটি উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গোপন সংগঠনের মধ্যে একটি। ঠিক কি উদ্দেশ্য নিয়ে এটি গঠিত হয় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে এই সংগঠনটিকে পৃথিবীর অনেক বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িত বলে ধরা হয় এবং এই কাজগুলো সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানেই হয় বলে গুজব আছে। কক্ষ ৩৯-এর সব চেয়ে বিখ্যাত কাজ ছিল ‘সুপার ডলার’ তৈরি। সুপার ডলার হলো আমেরিকান ডলারের নকল ভার্সন অথবা জাল ডলার, যেটি পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থা অথবা আমেরিকার মতো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো এগুলো ছিল মূল ডলারের মতোই উন্নতমানের কটন-লিনেন বেন্ড দিয়ে তৈরি এবং আমেরিকার মুদ্রার অনেক সিকিউরিটি ফিচার এখানে রিক্রিয়েট করা হয়েছিল। এই পুরো ব্যাপারটার জন্য কক্ষ ৩৯-এর দিকেই আঙ্গুল তোলা হয়েছিল সরাসরি। বিভিন্ন রকমের নিষিদ্ধ অস্ত্র কেনাবেচা এবং সুইস ব্যাংকের কিছু একাউন্টের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীতে ইন্সিওরেন্স ফ্রডের জন্য এই সংস্থাটি দায়ী। পৃথিবীর সব বড় বড় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এদের কাছে নাকানি চুবানি খায় হরহামেশাই। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের অবস্থান এখনও কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ।
“এরিয়া ৫১”– যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদাইতে অবস্থিত এই জায়গাটি নিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ এখনও একটা ঘোরের মধ্যে আছে। এটি একটি মিলিটারি বেইজ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। এ এলাকার বাইরেও একটা বিশাল এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মূলত এটি একটি বৃহৎ গোপন সামরিক বিমানাঙ্গন বেস। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ এবং অস্ত্রশস্ত্র সিস্টেমের উন্নয়ন এবং পরীক্ষার সহায়ক। তীব্র গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয় বেস ঘিরে। যার অস্তিত্ব সম্পর্কে মার্কিন সরকার প্রায়ই অস্বীকার করে যার ফলশ্রুতিতে এটি আজ বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় স্থানে পরিণত হয়ে আছে। কি করা হয় ওখানে? পৃথিবীর একটা বিশাল অংশের মানুষের ধারণা ওখানে এলিয়েন নিয়ে গবেষণা করা হয়। এরিয়া ৫১ থেকেই এলিয়েনদের সাথে যোগাযোগ করা হয় বলেও বিশ্বাস করে অনেকে।
“ভ্যাটিকানের গোপন নথি”– যুগযুগ ধরেই ভ্যাটিকান সিটি মানুষের রহস্যের খোরাক। যীশুর আমলের আগে থেকেই পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের সাক্ষী এই ভ্যাটিকান সিটি। এই জায়গাটিকে ‘স্টোর হাউজ অব সিক্রেট’ও বলা হয়। খুব অল্প সংখ্যক স্কলারই এই জায়গায় ঢুকতে পারেন, তাও পোপের বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে। এখানে প্রায় ৮৪ হাজার বই আছে। আর এই জায়গাটি প্রায় ৮৪ কি.মি. দীর্ঘ। ধারণা করা হয় খ্রিষ্টান, মিশনারি, প্যাগানসহ আরও অনেক ধর্ম আর মতবাদের বহু গোপন নথি এখানে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই গ্রন্থগারে প্রবেশের অধিকার নেই।
“রাফ মেনওয়িদ হিল”– সারা বিশ্বের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এক বিস্ময়ের নাম এই মেনওয়িদ হিল। এটি আমেরিকার ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত। এটি একটি ব্রিটিশ সামরিক বেস যেটি ইখেলন গ্লোবাল স্পাই নেটওয়ার্কিংর সাথে সংযুক্ত। আমেরিকা আর ইংল্যান্ডকে ইন্টিলিজেন্স সাপোর্ট দেওয়ার জন্যই এটি তৈরি করা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক মনিটরিং স্টেশনও এখানে রয়েছে। বাণিজ্যিক গুপ্তচরবৃত্তি কাজেও জড়িত থাকার অভিযোগ আছে এই রাফ মেনওয়িদ হিলের বিরুদ্ধে। এছাড়া ধারণা করা হয় এখান থেকেই দেশের সমস্ত টেলিফোন এবং বেতার যোগাযোগের ফিল্টার করা হয়, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পুরো জায়গার চারপাশে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এতটাই জটিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে এ এলাকায় ঢোকা একেবারেই অসম্ভব।
প্রধান উপদেষ্টাঃ ফয়েজ আহমদ দৌলত
উপদেষ্টাঃ খালেদুল ইসলাম কোহিনূর
উপদেষ্টাঃ মোঃ মিটু মিয়া
উপদেষ্টাঃ অর্জুন ঘোষ
আইন বিষয়ক উপদেষ্টাঃ এড. মোঃ রফিক আহমদ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মোহাম্মদ হানিফ
সম্পাদক ও প্রকাশক : বীথি রানী কর
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : ফয়সাল আহমদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: কামরুল হাসান
নিউজ ইনচার্জ : সুনির্মল সেন
অফিস : রংমহল টাওয়ার (৪র্থ তলা),
বন্দর বাজার, সিলেট।
মোবাইল : ০১৭১৬-৯৭০৬৯৮
E-mail: surmamail1@gmail.com
Copyright-2015
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি