যে অভ্যাস ত্যাগ না করলে রোজা পূর্ণ হয় না

প্রকাশিত: ২:৫২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

যে অভ্যাস ত্যাগ না করলে রোজা পূর্ণ হয় না

Manual1 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
ইসলামে রোজা পালন কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়, বরং এটি মানুষের চরিত্র; ভাষা ও আচরণকে পরিশুদ্ধ করার এক মহান প্রশিক্ষণ। রোজার মূল লক্ষ্য হলো- তাকওয়া অর্জন এবং মিথ্যা, অন্যায় ও পাপ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

 

Manual2 Ad Code

তাই একজন রোজাদারের জন্য শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং তার জিহ্বা, দৃষ্টি ও সকল আচরণকেও গুনাহ থেকে সংযত রাখতে হয়। এ বিষয়ে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ -সহিহ বোখারি: ১৯০৩

 

বর্ণিত হাদিস আমাদের শেখায় যে, রোজার আসল উদ্দেশ্য বাহ্যিক সংযমের চেয়ে অন্তরের পরিশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতি সাধন করা। কেউ যদি রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলে, প্রতারণা করে, গীবত-নিন্দা করে বা অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকে, তবে সে রোজার প্রকৃত ফল থেকে বঞ্চিত হয়। এখানে ‘আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই’ কথাটির অর্থ হলো- এমন রোজা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা তার সন্তুষ্টি অর্জনের উপযুক্ত হয় না।

 

Manual4 Ad Code

ইমাম ইবনে হাজার (রহ.) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘এ হাদিস রোজাদারকে সতর্ক করে যে, রোজা শুধু শরীরের নয়, বরং জিহ্বা, মন ও আচরণেরও রোজা হতে হবে। প্রকৃত রোজা সেই, যা মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে এবং তার চরিত্রে সততা, সংযম ও আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে।’

 

Manual6 Ad Code

অতএব, রোজার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের উচিত মিথ্যা, অশ্লীলতা, অন্যায় ও সব ধরনের গুনাহ থেকে নিজেদের বিরত রাখা। তবেই রোজা হবে আত্মশুদ্ধির মাধ্যম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।

 

ইসলামি স্কলারদের মতে, রমজান হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের অপূর্ব উপহার। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত থাকে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ থাকে এবং শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকে- যা আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের পথকে সহজ করে দেয়।

Manual8 Ad Code

 

অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো- রমজানকে গাফিলতিতে নয়, বরং সচেতনতা, ইখলাস ও আমলের মাধ্যমে গ্রহণ করা; যাতে এ মাস আমাদের জীবন বদলে দেওয়ার এক সফল উপলক্ষে পরিণত হয় এবং আমরা আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জনে ধন্য হতে পারি।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code