রমজান মাসে ভালো ঘুমে ঈদে মিলবে উজ্জ্বল ত্বক

প্রকাশিত: ২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

রমজান মাসে ভালো ঘুমে ঈদে মিলবে উজ্জ্বল ত্বক

Manual1 Ad Code

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:
রোজার সময় প্রতিদিনের রুটিনে আসে বড় পরিবর্তন। সেহরি, ইফতার, ইবাদত সব মিলিয়ে ঘুমের সময় কমে যায় বা অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

 

অনেকেই ভাবেন, কয়েক ঘণ্টা কম ঘুমালে তেমন কিছু হবে না। তবে ত্বকে খুব দ্রুতই এই পরিবর্তনের প্রভাব দেখাতে শুরু করে।

 

অর্থাৎ সকালে আয়নায় তাকালেই বোঝা যায় চোখের নিচে কালচে দাগ, ত্বকের নিস্তেজ ভাব, কিংবা অকারণ লালচে হয়ে ওঠা, যা ঈদের দিনে সুন্দর ত্বক পাওয়ার চাহিদা অপূর্ণই রাখে।

 

ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ঘুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ রমজান মাসে সবচেয়ে অবহেলিত বিষয়গুলোরই একটি হয়ে ওঠে এটি।

 

Manual4 Ad Code

যে কারণে ত্বকের জন্য ঘুম দরকার

গভীর ঘুমে থাকলে শরীরের ভেতরে এক ধরনের মেরামত প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই সময় ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে, কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কোষগুলো দ্রুত পুনর্গঠিত হয়। সহজভাবে বললে, এটি ত্বকের পুনরুজ্জীবনের সময়।

 

Manual7 Ad Code

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের প্রধান ও রূপ-বিশারদ শারমিন কচি’র মতে, “এই সময়টাতেই ত্বক নিজের সারাদিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও স্নায়ুতন্ত্র মেরামত প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। কিন্তু ঘুম কম হলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ত্বক আর নিজেকে ভালোভাবে ঠিক করতে পারে না।”

 

এই রূপচর্চাকরের ব্যাখ্যায়, “ঘুম কম হলে শরীরে মানসিক চাপের হরমোনও বাড়ে, যা ত্বকের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে ত্বক মেরামতের ক্ষমতা হারায় এবং ধীরে ধীরে ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।”

 

ত্বকের সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে যায়

ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর থাকে, যা শরীরকে বাইরের ধুলাবালি, জীবাণু এবং ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই স্তরটি দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

এছাড়া পুরো রোজার মাসজুড়ে ঘুমের অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, খসখসে লাগে এবং সহজেই জ্বালাপোড়া বা চুলকানি দেখা দিতে পারে।

 

Manual5 Ad Code

ত্বক তখন আর ঠিকমতো আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে না। ফলে সামান্য পরিবেশগত পরিবর্তনেও ত্বক প্রতিক্রিয়া দেখায়।

 

ফলে ঈদের দিনে সকালে ত্বকে ব্রণ, চামড়া ফাটা বা রং কালচে দেখাতে পারে। আর এই অবস্থায় ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যা বা ব্রণও দ্রুত সারতে চায় না।

 

ব্রণ, লালচে ভাব ও প্রদাহ বাড়ে

রোজার সময় কম ঘুম এবং খাবারের সময়ের পরিবর্তনের কারণে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর।

 

ঘুম কম হলে মানসিক চাপের হরমোন বেড়ে যায়, যা ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করে। এর ফলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

 

ঘুম কম হলে শরীরে সামগ্রিকভাবেই প্রদাহ বাড়ে। ফলে ত্বক লালচে হয়ে ওঠে, সংবেদনশীলতা বাড়ে এবং ছোটখাটো সমস্যা দ্রুত বড় আকার ধারণ করে।

 

টানা কয়েকদিন কম ঘুমালে গাল গরম হয়ে থাকে বা ত্বক অস্বাভাবিকভাবে লাল দেখায়— এটাই সেই প্রভাব।

 

নিস্তেজ ত্বক, চোখের নিচে কালচে দাগ ও ফোলা ভাব

এক রাত ভালো ঘুম না হলে যেমন ক্লান্ত লাগে, তেমনি ত্বকেও তার ছাপ পড়ে। মুখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়। আর পুরো এক মাস ঘুম কম হলে তার প্রভাব ব্যাপক ভাবে ত্বকে ধরা দেয়।

 

ঘুমের অভাবে রক্ত চলাচল কমে যায়, ফলে ত্বকে প্রাণবন্ত ভাব থাকে না। এছাড়া চোখের নিচে কালচে দাগ ও ফোলা ভাবের অন্যতম কারণ হল কম ঘুম।

 

শরীরের ভেতরে তরলের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলে এই সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়।

 

রোজার সময় যেভাবে ত্বক রক্ষা করবেন

রোজার সময় ঘুম পুরোপুরি ঠিক রাখা অনেকের জন্য কঠিন। তবে কিছু সচেতনতা ত্বকের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 

Manual1 Ad Code

দিনের মধ্যে ছোট সময়ের ঘুম শরীরকে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়। রাতে অন্তত কয়েক ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

 

ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত যত্ন নেওয়াও জরুরি।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code