ইফতারের পর ধূমপান: শরীরের জন্য কেন বিপজ্জনক?

প্রকাশিত: ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬

ইফতারের পর ধূমপান: শরীরের জন্য কেন বিপজ্জনক?

Manual8 Ad Code

লাইফস্টাইল ডেস্ক:
রমজানে অনেকেই ইফতার শেষ করে ধূমপানকে ‘আরাম’ হিসেবে দেখেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালি পেটে ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ না খাওয়া শরীর হজম ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা করছে, এই সময় সিগারেট খেলে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্তনালীর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
খালি পেটে ধূমপান

Manual6 Ad Code

 

রোজার সময় পাকস্থলী প্রায় খালি থাকে। ইফতারের সঙ্গে সঙ্গে ধূমপান করলে নিকোটিন ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রুত রক্তে প্রবেশ করে। ফলে মাথা ঘোরা, বমিভাব, বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

 

হজম ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি
খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে হজম শুরু হয়। ধূমপান রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় ও অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়ায়, যা গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা বা রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন হলে আলসারও হতে পারে।

Manual5 Ad Code

 

হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ
নিকোটিন স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে হার্টবিট ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক।

Manual2 Ad Code

 

ফুসফুসে চাপ ও অক্সিজেন ঘাটতি
সারাদিন ধূমপান না করায় ফুসফুস কিছুটা বিশ্রাম পায়। কিন্তু ইফতারের পর একসঙ্গে ধোঁয়ার আঘাতে শ্বাসনালিতে জ্বালা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কার্বন মনোক্সাইডের কারণে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।

 

ডিহাইড্রেশন ও রক্তে শর্করার ওঠানামা
রোজার দিনে শরীর এমনিতেই পানিশূন্যতার দিকে থাকে। ধূমপান শরীর থেকে পানি বের করে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। ফলে ইফতারের পর ধূমপান করলে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। এতে পরের দিনের রোজাও হয়ে ওঠে আরো কষ্টকর।

 

লিভার ও মুখের ক্ষতি
লিভার শরীরের বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কারের কাজ করে। ইফতারের পর যখন লিভার খাবারের পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করছে, তখন ধূমপানের বিষাক্ত উপাদান একসঙ্গে ঢুকে পড়লে লিভারের ওপর চাপ বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়ে শরীরের সামগ্রিক বিপাকক্রিয়ায়।

Manual3 Ad Code

 

আসক্তি আরো গভীর হয়
সারাদিন না ধূমপানের পরে ইফতারের প্রথম সিগারেট মস্তিষ্কে ‘পুরস্কার সংকেত’ তৈরি করে, যা ধূমপানের প্রতি মানসিক নির্ভরতা আরো বাড়ায়।

 

করণীয়
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন—ইফতারের পর অন্তত ১–২ ঘণ্টা ধূমপান এড়িয়ে চলুন। পানি পান করুন, হালকা হাঁটুন, ফলমূল খান। রমজান হতে পারে ধূমপান ছাড়ার একটি সুযোগ, কারণ দিনের বড় অংশে শরীর স্বাভাবিকভাবে অভ্যাস থেকে দূরে থাকে।

 

ইফতারের পর ধূমপান যদিও ব্যক্তিগত অভ্যাস মনে হয়, কিন্তু শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রভাব ফেলে। রমজান মাসে যদি সংযম ধূমপানেও আনা যায়, তা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও বড় লাভ।

 

(সুরমামেইল/এএইচএম)


সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code