সিলেট ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২৬
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় হাজিরা দিতে সিলেট আদালতে গউছ, আরিফুল ও বাবর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সিলেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে হাজির হয়ে এ মামলায় জবানবন্দি দেন তারা।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল মামলার যুক্তিতর্কের দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। এরপর রায়ের দিকে যাবে বিচারপ্রক্রিয়া। তবে মামলাটিকে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে অব্যাহতি চেয়েছেন আসামিরা।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ টি এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, মামলার ৬৭ সাক্ষীর মধ্যে কেউই আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলেননি। পর্যাপ্ত ও জোরালো প্রমাণের অভাবে আসামিরা খালাস পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ৩৪২ ধারায় আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হওয়ায় মামলাটি এখন যুক্তিতর্কের পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করবে আদালত।
আদালতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর জবানবন্দিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।
তাদের ভাষ্য, তৎকালীন সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে হয়রানিমূলকভাবে মামলাটি করে। শুরুতে এজাহারে তাদের নাম ছিল না পরবর্তীতে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
হুইপ জিকে গউছ বলেন, ‘এই মামলার কারণে সাড়ে ২৬ মাস নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কেবল বিএনপি করার কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এ মামলায় আমাকে আসামি করা হয়। আমি মামলার বাদীর শাস্তি দাবি করছি।’
২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে তখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান এ আওয়ামী লীগ নেতা।
তবে গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন। সমাবেশে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়।
সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনার করা দুটি মামলায় ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।
(সুরমামেইল/এফএ)
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি