সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক: কাজ শুরুর আগেই সাশ্রয় ৬০০ কোটি

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২৬

সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক: কাজ শুরুর আগেই সাশ্রয় ৬০০ কোটি

Manual5 Ad Code

মেইল ডেস্ক:
সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দর চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় কমেছে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সম্প্রতি প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে দুই হাজার ৫০৬ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে, যা পূর্বনির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

Manual6 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

এর আগে প্রায় তিন হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও দরপত্র প্রক্রিয়ায় ২০ শতাংশ কম মূল্যে কাজ পাওয়ায় প্রকল্প ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বাস্তবতায় মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা থাকলেও এ প্রকল্পে ঘটেছে উল্টো চিত্র।

 

২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সিলেট-চারখাই-শেওলা স্থলবন্দরের ৪২ দশমিক ৯৮৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় তিনটি পৃথক লটে নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ৪৭টি প্রস্তাব জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৯টি কারিগরি মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে সর্বনিম্ন দরদাতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

Manual6 Ad Code

প্রথম লটের কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে মনিকো লিমিটেড (বাংলাদেশ) ও চায়না রেলওয়ে নম্বর ফোর ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড। এ অংশের চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় লটের কাজ ৮১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় পেয়েছে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন। তৃতীয় লটের কাজ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে এনডিই (বাংলাদেশ) ও আরবিসিজি (চীন), যার মূল্য ৫৮৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

Manual3 Ad Code

 

প্রকল্পের আওতায় ২৪৭ একরের বেশি ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পেভমেন্ট নির্মাণ, ৩১টি কালভার্ট, তিনটি সেতু, তিনটি ফ্লাইওভার, ছয়টি ওভারপাস, পাঁচটি আন্ডারপাস, চারটি ফুটওভার ব্রিজ, সাতটি পথচারী পারাপার এবং একটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য সার্ভিস লেনও নির্মাণ করা হবে।

 

গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার ছাড়াও চারখাই ও হেতিমগঞ্জ বাজারে দুটি ৩০০ মিটারের ফ্লাইওভার এবং রানাপিং ও রামধা বাজারে আরও দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বর্তমান শেওলা সেতুর পাশে কুশিয়ারা নদীর ওপর চার লেনবিশিষ্ট নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

 

প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক উৎপল সামন্ত জানান, দীর্ঘদিন কাজ শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কারণে মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

 

প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদ হাসান বলেন, মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পরই মূল নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ব্যয় কমলেও প্রকল্পের মূল নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে গোলাপগঞ্জের পরবর্তী অংশে দুই পাশের সার্ভিস লেন বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, অন্য একটি বড় প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজে কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় এ প্রকল্পের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে। তবে আগামী আগস্টের মধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার পাশাপাশি মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার মানুষ সরাসরি এর সুফল ভোগ করবেন।

 

(সুরমামেইল/এফএ)


সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code