স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কি খাবেন ভাত না রুটি

প্রকাশিত: ৫:১৮ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৬

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কি খাবেন ভাত না রুটি

Manual4 Ad Code

Rice-bg20160425070216

স্বাস্থ্য ডেস্ক : এই সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের বড় সমস্যা বাড়তি ওজন। চিকিৎসকরা কিছু ক্ষেত্রে রুটি আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। আবার বিশেষ বিশেষ রোগের ক্ষেত্রে যেমন ডায়াবেটিস, কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার বেশ প্রভাব ফেলে। জেনে নিন ভাত এবং রুটি সম্পর্কে কিছু বিষয়। তারপর আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, ভাত খাবেন না রুটি?

খাদ্যগুণ বিচার করতে গেলে একদিক থেকে ভাতের চেয়ে আটার রুটি বেশি ভালো। কারণ রুটি অনেক বেশি তাপশক্তি বা ক্যালোরি উত্‍পাদন সক্ষম। যেমন, আধা ছটাক চাল থেকে পাওয়া যায় ১০২.১ ক্যালোরি আর আধা ছটাক আটা থেকে পাওয়া যায় ৯৬.৪ ক্যালোরি। কিন্তু যখনই রান্না হয়, তখন দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। চাল থেকে যখন ভাত তৈরি হলো তখন চালের ক্যালরি ১০২.১ থেকে নেমে দাঁড়ায় ৫৬.৭। অথচ আটার ক্যালরি ৯৬.৪ রুটি হয়ে দাঁড়ায় ১০১.২।

Manual8 Ad Code

সাদা ধবধবে চালের প্রতি মানুষের দুর্বলতা রয়েছে। কিন্তু ওই বেশি ছাঁটা চালে ভিটামিন কম থাকে। আবার যখন ভাতের মাড় বা ফ্যান ফেলে দিয়ে রান্না করা হয় তখন বাদ পড়ে যায় প্রোটিন, খনিজ লবণ ও ভিটামিনের বড় একটা অংশ। গমের তুষের ক্ষেত্রেও একই ভুল করা হয়। আটা চেলে নিয়ে রুটি বানানো হয়। অথচ গমের তুষে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন থাকে।

Manual8 Ad Code

পুষ্টিবিদরা বলছেন, প্রতিদিনই দুই ধরনের খাদ্যশস্য যেমন ভাত-রুটি মিশিয়ে খাওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ভাত হলো কম ছাঁটা চালের আর রুটির ক্ষেত্রে তুষযুক্ত আটার রুটি। ভাত-রুটির প্রসঙ্গে এদের অন্তর্গত সবচেয়ে মূল্যবান উপাদান ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সম্পর্কে জেনে নিন কিছু বিষয়।

ভাতে পানি দিয়ে রাখলে অর্থাত্‍ পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স তৈরি হয়। তবে পান্তা ভাত ধুয়ে নিয়ে খেলে উপকার হবে না, ভেজানো পানিসহই খেতে হবে। রুটি করার সময়ও একটু বেশি পানি দিয়ে আটা মেখে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিয়ে তারপর রুটি করতে হয়। এতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স তৈরি হয়। মাখা আটার লেচি অল্প একটু তুলে রেখে পরের দিন আটা মাখার সময় সেটা মিশিয়ে নিতে হয়। আবার সেদিনের একটু লেচি রেখে পরের দিনের ফ্রেশ আটার সঙ্গে মেখে রুটি তৈরি করতে হয়। এ পদ্ধতির সাহায্যেও রুটিতে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স তৈরি হয়। জেনে নিন চাল ও গমের আটার পুষ্টিগুণ।

প্রতি ১০০ গ্রাম মেশিনে ছাঁটা চালে রয়েছে-

এনার্জি ৩৪৫ কিলোক্যালোরি
প্রোটিন ৬.৪ গ্রাম
ফ্যাট ০.৪ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ৭৯.০ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ২৪ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ১৩৬ মিলিগ্রাম
আয়রন ০.৮ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি১ .২১ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি২ ০.০৯ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন ৩.৮ মিলিগ্রাম

তবে আতপ চালের চেয়ে সিদ্ধ চালে পুষ্টি বেশি। বিশেষ করে সিদ্ধ চালে ভিটামিন বি১ এবং কিছু খনিজ পদার্থ বেশি থাকে।

Manual2 Ad Code

প্রতি ১০০ গ্রাম গমের আটায় রয়েছে-

এনার্জি ৩৪১ কিলোক্যালোরি
প্রোটিন ১২.১ গ্রাম
ফ্যাট ১.৭ গ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ৬৯.৪ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ৪১ মিলিগ্রাম
ফসফরাস ৩৭২ মিলিগ্রাম
আয়রন ৩.৩ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি১ ০.৫৫ মিলিগ্রাম
ভিটামিন বি২ ০.১২ মিলিগ্রাম
নিয়াসিন ০.৩ মিলিগ্রাম।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code