হুনজা’রা পৃথিবীর সবচেয়ে নীরোগ সম্প্রদায়

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৬

হুনজা’রা পৃথিবীর সবচেয়ে নীরোগ সম্প্রদায়

Manual4 Ad Code

হুনজাদের দুই প্রজন্ম, বাবা ও ছেলে

অনলাইন ডেস্ক :: সুখী জীবনের একটি উৎস অবশ্যই নীরোগ জীবন। সেই বিচারে উত্তর পাকিস্তানের গিলগিট-বালটিস্তানের অন্তর্গত হুনজা প্রদেশে বসবাসকারী মানুষদের সুখীতম বলে বিবেচনা করাই যায়। কারণ, তারা এমন একটি সম্প্রদায় যারা কখনো অসুস্থ হন না। আর তাদের কেউ কখনো ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও শোনা যায়নি।

Manual2 Ad Code

হুনজা নারীদের মধ্যে এমনও কেউ কেউ আছেন যারা ৬৫ বছর বয়সেও সন্তানের মা হয়েছেন। প্রবল ঠাণ্ডার মধ্যেও তারা নিয়মিত ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করেন হুনজারা। তাতেও সচরাচর সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হতে দেখা যায় না তাদের।

Manual8 Ad Code

কিন্তু হুনজাদের এই নীরোগ জীবনের রহস্যটা কী? হুনজারা বলেন, উপত্যকায় নিজেরা যা চাষ করেন, কেবল সেই শাকসবজিই খান। জোয়ার, বাজরা, বাদাম নিজেরাই চাষ করে ঘরে তোলেন হুনজারা। এছাড়াও তাদের জীবনযাপনের প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রচুর হাঁটতে হয়। সেটিও তাদেরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া হুনজাদের রীতি হলো, প্রতি বছর ফল চাষ শুরু করার আগে ২ থেকে ৪ মাস উপবাস পালন করা। সেই রীতিও তাদের শরীরের উপকার করে বলে মনে করেন ডাক্তররা।

Manual3 Ad Code

খোবানি সংগ্রহের পর সেগুলো শুকানো ও পরিচর্যায় ব্যস্ত হুনজা নারীরা।

কিন্তু একটি সম্প্রদায় কীভাবে সম্পূর্ণ ক্যানসার-মুক্ত হতে পারে? আসলে হুনজারা প্রচুর পরিমাণে অ্যাপ্রিকোট বা খোবানি নামের ফল খান। তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় খোবানি থাকেই। এই খোবানিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে বি-১৭ ভিটামিন। এই ভিটামিন ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষ সহায়ক বলে জানান ডাক্তাররা।

শুধু‌ নীরোগ নয়, হুনজারা দীর্ঘ জীবনেরও অধিকারী। হুনজাদের মধ্যে কেউ কেউ দেড়শো বছরও জীবিত থেকেছেন বলে শোনা যায়। ১৯৮৪ সালে সৈয়দ আবদুল বুন্দু নামের এক হুনজা ভদ্রলোক লন্ডন এয়ারপোর্টে প্লেন থেকে নামেন। এয়ারপোর্টের কর্মচারীরা তার পাসপোর্ট দেখে হতবাক হয়ে যান। কারণ তার পাসপোর্টে জন্মসাল লেখা ছিল ১৮৩২।

Manual2 Ad Code

সত্যিই আবদুল বুন্দু ১৫২ বছর বয়সে লন্ডন পাড়ি দিয়েছিলেন কি না সে বিষয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু হুনজারাই যে পৃথিবীর সবচেয়ে নীরোগ স্বাস্থ্যের অধিকারী সেই নিয়ে সন্দেহ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code