মুখ ও পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ পেয়েছে তারা

প্রকাশিত: ৩:২২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২০

মুখ ও পা দিয়ে লিখেই জিপিএ-৫ পেয়েছে তারা

Manual6 Ad Code

সুরমা মেইল ডেস্ক : হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়া মেয়েটি মুখে দিয়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। নাম তার লিতুন জিরা।

 

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে সে। এবার উপজেলার খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয় লিতুন জিরা।

 

 

লিতুন জিরা পরনির্ভর হয়ে সমাজের বোঝা হতে চায় না। লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে চায় জন্ম থেকে দুই হাত-পা ছাড়া জন্ম নেয়া মেয়েটি। জীবনের প্রথম প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় মেধার সাক্ষর রেখেছে সে।

 

শুধু তাই নয়,সম্প্রতি মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধাতালিকায় স্থান পায় লিতুন জিরা।

 

স্থানীয়রা জানান, লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহী লিতুন জিরা প্রখর মেধাবী। হুইল চেয়ারেই বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে এ-প্লাস পেয়ে লিতুন জিরা মেধার সাক্ষর রাখল।

 

মেধাবী এ শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলার এ আর মহিলা কলেজের প্রভাষক। তিনি ১৭ বছর ধরে ওই কলেজে চাকরি করলেও আজো কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়নি। তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু বেতন না পাওয়ায় খুব কষ্টে তাদের সংসার চলে।

 

লিতুন জিরার বাবা হাবিবুর রহমান ও মা জাহানারা বেগম বলেন, জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তা ছিল তাদের। এখন মেয়ের মেধা তাদের আশার সঞ্চার করেছে। লিতুন জিরা আর ১০ জন শিশুর মতো স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া, গোছল সবকিছুই করতে পারে। মুখ দিয়েই লিখে সে। তার চমৎকার হাতের লেখা যে কারো দৃষ্টি কাড়বে।

Manual1 Ad Code

 

একসময় যখন হাত-পা ছাড়াই জন্ম নিয়েছিল মেয়েটি, তখন পিতা মাথার চোখের পানির কারণ ছিল সে। এখন মেয়ের কারণে আবারও তাদের চোখে পানি আসে। তবে সেটা দুঃখের নয়, বড়ই আনন্দের।

 

লিতুন জিরার প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন বলেন, তার ২৯ বছর শিক্ষকতা জীবনে লিতুন জিরার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীর দেখা পাননি। এককথায় সে অসম্ভব মেধাবী। শুধু লেখাপড়ায় না, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অন্যদের থেকে অনেক ভালো সে।

 

 

পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পেল মানিক

এদিকে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার জছিমিঞা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে চমকে দিয়েছে প্রতিবন্ধী মানিক রহমান। সে পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে এই সফলতা অর্জন করল। তার এই অর্জনে খুশি সহপাঠীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

Manual7 Ad Code

 

পা দিয়ে লিখে সফলতা অর্জন করে প্রতিবন্ধী মানিক রহমান বলেন, ‘আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে পা দিয়ে লিখে এবারের জেএসসি পরীক্ষায় সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করতে চাই।

Manual7 Ad Code

 

ছেলের এমন ফলাফলে খুশিতে কেঁদে ফেললেন মানিক রহমানের বাবা মিজানুর রহমান। তিনি বললেন, আমার দুটো সন্তান। ছোট সন্তান দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমি দুই সন্তানকেই সমান চোখে দেখি। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই আমি ও আমার স্ত্রী তাকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। এজন্য আমার স্ত্রীর অবদানটাই অনেক বেশি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও মানিক এবারের জেএসসি পরীক্ষায় ভালো রেজান্ট করেছে। মানিকের জন্য আমরা গর্ববোধ করি।

 

ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, মানিক মেধাবী শিক্ষার্থী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছে। সে এর আগে প্রাথমিক সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল। সে আমাদের বিদ্যালয়ের সম্পদ। ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের ফাঁকে কলম ধরে লিখে আর বাম পা দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টাতে পারে। এভাবে পরীক্ষা দিয়ে সে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code